মানব পাচার রোধে নতুন আইন কতটা কার্যকর হবে?
মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে সরকারের পদক্ষেপ
ম নব প চ র র ধ – বর্তমান সরকার বিশ্বজুড়ে প্রচলিত মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান বিরোধী কাজে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। তিনি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসারে প্রণীত নতুন আইন বিষয়ে কথা বলেন, যা মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান দমনে এক যুগান্তকারী বিধান হিসেবে গণ্য।
এক সচেতনতামূলক প্রতিষ্ঠানে আইনের আলোচনা
বৃহস্পতিবার রাজধানীতে আয়োজিত সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সচেতনতামূলক কর্মশালায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার-এর সহযোগিতায় আইনের বিষয়ে আলোচনা করা হয়। কর্মশালায় দেশের প্রধান গণমাধ্যম কর্মীদের উপস্থিতি ছিল।
“মানব পাচার রোধে কেবল কঠোর আইনই যথেষ্ট নয়। এর জন্য ব্যাপক জনসচেতনতার প্রয়োজন।”
কর্মশালার সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দীন আহমেদ। এখানে বিশেষ অতিথি হিসেবে মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব রেবেকা খান উপস্থিত ছিলেন। এই আইনের উপস্থাপন করেন জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।
নতুন আইনের গুরুত্বপূর্ণ বিধান
মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, নতুন আইনে পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে যেমন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা, সম্পত্তি আটক করা এবং আসামির অনুপস্থিতিতে বিচার করার মতো বিধান। আইনে অনুষ্ঠিত সামগ্রিক বিধানগুলো সংযুক্ত করা হয়েছে যা মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানকে বিশেষ প্রক্রিয়া হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে।
বিশেষ করে অনিচ্ছাকৃতভাবে জাল পাসপোর্ট ব্যবহার করা বা অনুপ্রবেশের সাথে জড়িত ভুক্তভোগীদের আইনের আওতায় আসামি করা হবে না। সেই সাথে ভুক্তভোগীদের আশ্রয়কেন্দ্রে থাকার সময় প্রতি ৬ মাস অন্তর প্রতিবেদন দাখিল করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে, যা দ্রুত ন্যায়বিচারে সাহায্য করবে।
নতুন আইনে অনলাইন প্রতারণা, স্ক্যামিং এবং মুক্তিপণ আদায়ের মতো নতুন ধারার অপরাধগুলোও আওতাধীন করা হয়েছে। ২০১২ সালের আইনের সীমাবদ্ধতাগুলো কাটিয়ে উঠেছে এবং মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান সংক্রান্ত সব বিধান একীভূত করা হয়েছে।
