নিষেধাজ্ঞার ২৪ বছর পরও পলিথিন নির্ভরতা কমেনি: গবেষণার দাবি
ন ষ ধ জ ঞ র ২৪ – বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে পলিথিন শপিং ব্যাগ নিষিদ্ধ করা হয় ২০০২ সালে। তবে এই কার্যকরী নিষেধাজ্ঞার দুই দশকের বেশি সময় পরও বাংলাদেশে পলিথিনের ব্যবহার আকার অপরিবর্তিত থাকার কথা এক নতুন গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। পরিবেশবাদী সংগঠন এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (এসডো) বুধবার রাজধানীতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে দেখা গেছে বাংলাদেশের শহর, উপশহর ও গ্রামের প্রায় ২০০০ জন ভোক্তার ও বিক্রেতার মতামত বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
গবেষণায় বিশ্লেষণের ফলাফল অনুযায়ী পলিথিন ব্যবহার অব্যাহত রয়েছে কম দাম, সহজে পাওয়া যায় এবং দীর্ঘদিনের অভ্যাসের কারণে। সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশিত রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে প্রায় ৬৩ শতাংশ বিক্রেতা পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধের জানার পরও নিয়মিত ব্যবহার করে। অন্যদিকে প্রায় ৫৫ শতাংশ বিক্রেতা সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী বিকল্প পাওয়া গেলে তারা পলিথিন ব্যবহার কমাতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ একসময় বিশ্বকে পথ দেখিয়েছিল পলিথিন শপিং ব্যাগ নিষিদ্ধের মাধ্যমে। কিন্তু দুই দশকের বেশি সময় পরও এর কাঙ্ক্ষিত সুফল পুরোপুরি অর্জিত হয়নি।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে পরিবেশগত লক্ষ্য অর্জনে সমন্বিত ও টেকসই উদ্যোগ জরুরি। সাবেক সচিব সৈয়দ মার্গুব মোর্শেদ বলেন, “বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধের মাধ্যমে। এখন প্রয়োজন বর্তমান আইন ও নীতির কার্যকর প্রয়োগ।”
এসডোর সাধারণ সম্পাদক ড. শাহরিয়ার হোসেন বলেন, “পলিথিন উৎপাদন ও বিপণনের সঙ্গে জড়িত শক্তিশালী সিন্ডিকেট একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কার্যকর নীতি প্রয়োগ, আইন বাস্তবায়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা গেলে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব।”
গবেষণায় পরিবেশ শিক্ষা জোরদার, আইন সংস্কার, কঠোর প্রয়োগ, সাশ্রয়ী বিকল্পের সম্প্রসারণ এবং সরকারি-বেসরকারি সমন্বয় বৃদ্ধির পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এসডোর নির্বাহী পরিচালক সিদ্দিকা সুলতানা বলেন, “আন্তর্জাতিক বিষয়ে সামনে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের একত্র হওয়া দরকার। কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া গেলে পলিথিনমুক্ত ভবিষ্যতের পথে বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে পারবে।”
