Uncategorized

ঐতিহাসিক অর্জনেও নেই উচ্ছ্বাস; দেশের নীরবতায় অবাক ফারুকী!

farooki-rubaiyat

ফারুকীর অবাক হওয়া: ঐতিহাসিক অর্জন সত্ত্বেও দেশের নীরবতা

Todaybangladeshnews.com – ঐত হ স ক অর জন ও – রুবাইয়াত হোসেনের পরিচালনায় তৈরি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের অরিজোন্তি বিভাগে নির্বাচিত হয়েছে। বাংলাদেশি সিনেমার ইতিহাসে এটিকে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো কোনো বাংলাদেশি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের আনুষ্ঠানিক প্রতিযোগিতা বিভাগে স্থান করে নিয়েছে।

তবে এমন একটি আন্তর্জাতিক সাফল্য দেশে প্রত্যাশিত আলোচনার জন্ম দেয়নি বলে মনে করছেন জনপ্রিয় নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক পোস্টে তিনি এই বিষয়ে কিছুটা হতাশা প্রকাশ করেছেন।

ভেনিস পৃথিবীর দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ফেস্টিভ্যাল। সেখানে রুবাইয়াতের ছবি নির্বাচিত হইছে। ম্যাসিভ, ম্যাসিভ নিউজ এটা। কিন্তু এটা নিয়া কোনো সাড়া-শব্দ নাই। কবরের মতো নীরবতা আমাদের পাড়ায়। আমি অনেস্টলি বেশ অবাক হইছি। নিউজটা কি সবার চোখ এড়ায়া গেলো?

ফারুকী আরও উল্লেখ করেছেন যে, একজন নির্মাতার আন্তর্জাতিক সাফল্য আসলে পুরো দেশের চলচ্চিত্রেরই অর্জন। তিনি বলেন, “একজনের অর্জন আসলে আমাদের সবারই। এবং সবাই মিলেই একটা ওয়েভ হয়। একা একা বা একেকটা বিচ্ছিন্ন কৌম দিয়ে সেটা হয় না। রুবাইয়াতের এই অর্জন আমাদের সবার জার্নিটাকেই গতি দেবে।”

অস্কার বিবেচনার নতুন নীতিমালা

নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যায় দিতে গিয়ে ফারুকী পোস্টের মন্তব্যে অস্কার কর্তৃপক্ষের নতুন নীতিমালার একটি অংশও শেয়ার করেন। সেখানে উল্লেখ রয়েছে, বিশ্বের ছয়টি শীর্ষস্থানীয় চলচ্চিত্র উৎসবের সেরা পুরস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রগুলো সরাসরি অস্কারের বিবেচনায় যাওয়ার সুযোগ পাবে। এই তালিকায় রয়েছে কান, ভেনিস, বার্লিন, সানড্যান্স, বুসান এবং টরন্টোর মতো প্ল্যাটফর্ম। ফারুকীর মতে, ভেনিসের আন্তর্জাতিক গুরুত্ব বোঝাতে এটিও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।

চলচ্চিত্রের বিস্তারিত তথ্য

প্রসঙ্গত, আগামী ২ থেকে ১২ সেপ্টেম্বর ইতালির ভেনিসে অনুষ্ঠিত হবে উৎসবটির ৮৩তম আসর। সেখানেই বিশ্ব প্রিমিয়ার হবে বাংলাদেশি সিনেমা ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’-এর। মনস্তাত্ত্বিক হররধর্মী এই চলচ্চিত্রের গল্প আবর্তিত হয়েছে ঢাকার ঐতিহ্যবাহী মেফেয়ার বিউটি পার্লারকে ঘিরে।

প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন জাইনীন চৌধুরী করিম। এছাড়া রয়েছেন রিকিতা নন্দিনী শিমু, সুনেরাহ কামাল, শতাব্দী ওয়াদুদ, সাবেরী আলম, মোহাম্মদ বারী। বিশেষ উপস্থিতিতে দেখা যাবে আজমেরী হক বাঁধন ও দামীর খানকে।

ফ্রান্সের Les Films de l’Après-Midi-এর প্রযোজনায় নির্মিত সিনেমাটি বাংলাদেশ, পর্তুগাল, নরওয়ে ও জার্মানির যৌথ প্রযোজনায় তৈরি হয়েছে। নির্মাণের বিভিন্ন পর্যায়ে এটি ইউরিমাজ, ফ্রান্সের সিএনসি, পর্তুগালের আইসিএ, ইতালির ফোন্দাৎসিওনে প্রাদা ফিল্ম ফান্ড, নরওয়ের সোরফন্ড এবং জার্মানির ওয়ার্ল্ড সিনেমা ফান্ডের সহায়তা পেয়েছে।

রুবাইয়াত হোসেন এই অর্জনের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, বহু বছরের শ্রম, ভালোবাসা, ধৈর্য ও বিশ্বাস নিয়ে নির্মিত এই চলচ্চিত্রের পেছনে পুরো টিমের অবদান রয়েছে। তিনি সবার কাছে দোয়া চেয়ে বলেন, এই অর্জন যেন সামনে আরও সুন্দর পথ খুলে দেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *