ফুটবলের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়: ফিফার মালিকানা বিক্রির প্রস্তাব ও উয়েফার তীব্র প্রতিবাদ
Todaybangladeshnews.com – ব শ বক প র ম ল – ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা একটি উল্লেখযোগ্য প্রস্তাব নিয়ে এসেছে। ফুটবল বিশ্বকাপসহ অন্যান্য ইভেন্টের মালিকানা বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে হস্তান্তরের পরিকল্পনা তাদের। এই প্রস্তাবের ফলে ফুটবল জগতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে উয়েফার তীব্র প্রতিক্রিয়া এই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করেছে।
নতুন সহায়ক সংস্থা ও বিনিয়োগ পরিকল্পনা
মঙ্গলবার ফিফা স্পষ্ট করে জানায় যে, বিশ্বকাপ ও অন্যান্য ইভেন্ট পরিচালনার জন্য ২০ বিলিয়ন ডলারের একটি সহায়ক সংস্থা গঠন করা হবে। ফুটবলের বিশ্ব সংস্থা ঘোষণা করেছে যে, নতুন ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) নামের এই সংস্থার সংখ্যাগরিষ্ঠ শেয়ার তারা নিজেরা ধরে রাখবে। একই সাথে বহিরাগত বিনিয়োগকারীদের কাছে সংখ্যালঘু শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে ৪.২ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
এফএফই সংস্থাটি ভবিষ্যতে ছেলে ও মেয়েদের বিশ্বকাপের সংস্করণসহ বাণিজ্যিক ও ইভেন্ট পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবে। এই পরিকল্পনাটি কার্যকর করতে ফিফার ২১১টি সদস্য রাষ্ট্রের ভোটাভুটি প্রয়োজন।
বিনিয়োগকারী ও আর্থিক বিবরণ
ফিফা বহুজাতিক আর্থিক পরিষেবা সংস্থা জেপি মরগ্যানের সাথে এই প্রকল্পে কাজ করছে। বিনিয়োগকারীদের তালিকায় রয়েছে থ্রাইভ ইটারনাল, যার প্রতিষ্ঠাতা জোশুয়া কুশনার। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের ভাই।
ফিফা জানিয়েছে যে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ বিতরণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এই অর্থ পরবর্তীতে ফিফার ২১১টি সদস্য সংস্থার মধ্যে পুনরায় বণ্টন করা হবে।
ইনফান্তিনো ও বিশ্বকাপের ভবিষ্যৎ
কিছু গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সংস্থাটি নতুন বাণিজ্যিক উদ্যোগের মূল্য প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার নির্ধারণ করেছে। সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের পর ফুটবলের ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে মুনাফা করতে চাইছেন।
বিশ্বকাপ থেকে ফিফার রাজস্ব ১৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা পূর্বের ১৩ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় একটি উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। এই ধরনের প্রবৃদ্ধি ইনফান্তিনোকে আরও সম্পদ অর্জনের জন্য উৎসাহিত করছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা। খেলার কিছু অংশ সেই জনপ্রিয়তাকে অসাধারণ বাণিজ্যিক মূল্যে রূপান্তরিত করেছে। আমরা সেই সাফল্যকে উদযাপন করি ও চাই তা অব্যাহত থাকুক, কারণ এটি পুরো খেলাটিকে উন্নত করে।
উয়েফার তীব্র প্রতিক্রিয়া ও বিশ্বকাপ বর্জন
পরিকল্পনাগুলো প্রকাশিত হওয়ার সাথে সাথে উয়েফার পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া এসেছে। ইউরোপের সংস্থাটি বিশ্বকাপ বর্জন নিয়ে আলোচনা করবে। চলতি সপ্তাহের মধ্যে তাদের ৫৫টি সদস্য সংস্থার সাথে জরুরি বৈঠক আয়োজনের চেষ্টা চলছে।
ফিফার পরিকল্পনার তীব্র প্রতিবাদে উয়েফা বলেছে, এটি এমন একটি সীমা লঙ্ঘন করে, যা ফুটবলের নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানগুলোর কখনোই করা উচিত নয়। উয়েফা বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে। প্রতিটি জাতীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনেরও সেটাই করা উচিত। তেমনি প্রতিটি অংশীদারেরও লীগ, ক্লাব, খেলোয়াড়, সমর্থক, সরকার এবং যারা খেলাটির ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত, তাদেরও বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা উচিত।
ফুটবলের আত্মা ও পরিচালনা ব্যবস্থা কেনাবেচার মতো কোন সম্পদ নয়। বিশেষ করে যখন আর্থিকভাবে কারা লাভবান হচ্ছে, সেবিষয়ে কোন স্বচ্ছতা নেই। আমরা কেউই ফুটবলের মালিক নই। এটা বিক্রি করার অধিকার ফিফার নেই।
ফিফা বলছে, প্রস্তাবটি খেলাটির প্রতি মানুষের প্রবেশাধিকার বাড়াতে এবং বিশ্বব্যাপী অংশগ্রহণকে শক্তিশালী করতে তহবিল বৃদ্ধি করতে পারবে, এবং এর থেকে প্রাপ্ত সমস্ত নিট লাভ ফুটবলেই পুনঃবিনিয়োগ করা হবে।

