Uncategorized

পেপাল-পেওনিয়ারের মাধ্যমে লেনদেন চালুর উদ্যোগ

প প ল প ওন য র - বাংলাদেশ ব্যাংক আন্তর্জাতিক অনলাইন পেমেন্ট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে দেশের লেনদেন ব্যবস্থা আরও সহজ করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ

Desk Uncategorized
Published July 30, 2026
Reading time 1 minutes
Conversation No comments
Foto : Jessica Johnson - todaybangladeshnews.com

ব্যাংক-ইন্টারমিডিয়েটেড কাঠামোয় পেপাল ও পেওনিয়ার সেবা চালুর নতুন পথ

Todaybangladeshnews.com – প প ল প ওন য র – বাংলাদেশ ব্যাংক আন্তর্জাতিক অনলাইন পেমেন্ট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে দেশের লেনদেন ব্যবস্থা আরও সহজ করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ব্যাংক-ইন্টারমিডিয়েটেড ক্রস-বর্ডার ডিজিটাল পেমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক’ নামক একটি নতুন কাঠামো প্রবর্তন করেছে, যাতে দেশের সকল ব্যাংক পেপাল ও পেওনিয়ারের মতো প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি করে এই সেবা চালু করতে পারে। বুধবার (২৯ জুলাই) এই সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়, যা সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

নতুন কাঠামোর মূল বৈশিষ্ট্য

এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক সেবামুখী বাণিজ্য সহজীকরণ, ডিজিটাল আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধি এবং দেশের লেনদেন কাঠামোকে আধুনিকায়ন। ক্রসবর্ডার ডিজিটাল পেমেন্ট সেবাদাতা কোম্পানির বিষয়ে সার্কুলারে বলা হয়েছে, ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের নামে ‘ডিজিটাল ভ্যালু অ্যাকাউন্ট’ (ডিভিএ) নামে একটি ডিজিটাল ওয়ালেট বা স্টোরড-ভ্যালু অ্যাকাউন্ট খুলতে সহায়তা করতে পারবে। তবে এই ব্যক্তিগত হিসাবগুলো সরাসরি বা স্বতন্ত্রভাবে পরিচালিত হবে না।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি হিসাবকে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের অধীন একটি ‘মাস্টার ডিভিএ’ বা সেটেলমেন্ট অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত থাকতে হবে। লেনদেনের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ব্যাংকের সিস্টেমে রিয়েল টাইম মনিটরিং এবং একটি সমান্তরাল খতিয়ান বজায় রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো অব্যবহৃত তহবিল থাকলে তা ব্যাংকের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং নিয়মানুযায়ী তা ফেরত বা সামঞ্জস্য করতে হবে।

সুবিধাভোগী ও লেনদেন সীমা

এই কাঠামোর আওতায় ব্যক্তিশ্রেণির পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও ফ্রিল্যান্সাররা বৈদেশিক মুদ্রায় লেনদেনের সুবিধা পাবেন। ব্যক্তিগত, চিকিৎসা বা দাপ্তরিক কাজের ভ্রমণ কোটার আওতায় বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের ক্ষেত্রেও এ ডিজিটাল ওয়ালেট সুবিধা পাওয়া যাবে। ছোটখাটো আন্তর্জাতিক কেনাকাটা বা ফি পরিশোধে প্রতি লেনদেনে সর্বোচ্চ ৩০০ ডলার পর্যন্ত লেনদেন করা যাবে। এ ছাড়া সদস্যপদ ফি, আইটিসংক্রান্ত খরচ, ভিসা প্রসেসিং ফি এবং অনলাইনে হোটেল বুকিংয়ের ক্ষেত্রেও এটি ব্যবহার করা যাবে।

এক্সপোর্ট রিটেনশন কোটা (ইআরকিউ) এবং রেসিডেন্ট ফরেন কারেন্সি ডিপোজিট (আরএফসিডি) হিসাবের বিপরীতে এই সুবিধা দেওয়া যাবে। ইআরকিউ হিসাবধারী কোম্পানির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ তিনজন শীর্ষ কর্মকর্তা ব্যবসায়িক খরচের জন্য ডিভিএ হিসাব ব্যবহার করতে পারবেন। পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সার ও ই-কমার্স ব্যবসায়ীরা তাদের অর্জিত অর্থ সহজেই দেশে আনতে পারবেন। বাংলাদেশে আসা বিদেশি নাগরিক বা পর্যটকরাও দেশি মার্চেন্ট পয়েন্টে পেমেন্ট করার জন্য এই সেটেলমেন্ট সুবিধা পাবেন।

অনুমোদন প্রক্রিয়া ও ইতিহাস

সার্কুলারে বলা হয়েছে, এই সেবা চালু করার আগে ব্যাংকগুলোকে তাদের বিস্তারিত তথ্য, তাদের কারিগরি পরিকাঠামো এবং নিরাপত্তা কাঠামো উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ থেকে অনুমতি বা স্বীকৃতি নিতে হবে। ২০১৭ সালের মার্চে শুধু পেপালের সেবা চালু করতে সোনালী ব্যাংককে অনুমোদন দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু সোনালী ব্যাংক পেপলের সেবাটি শেষ পর্যন্ত চালু করেনি।

Leave a Comment