Todaybangladeshnews
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

আওয়ামী লীগ ও আগস্ট নিয়ে বিবিসি বাংলার বিশ্লেষণ

Published August 15, 2026 · Updated August 15, 2026 · By James Miller - todaybangladeshnews.com

Foto : James Miller - todaybangladeshnews.com

আগস্ট ও আওয়ামী লীগের ইতিহাস: একটি বিশ্লেষণ

Todaybangladeshnews.com – আওয় ম ল গ ও আগস ট - বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে আওয়ামী লীগের গতিপথের সাথে আগস্ট মাসের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। এই মাসটি দলটির জন্য শোক, সহিংসতা এবং রাজনৈতিক বিপর্যয়ের স্মৃতিতে জড়িয়ে আছে। বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ এই দলটির ইতিহাসের সবচেয়ে বড় কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে এই মাসেই। ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে পতন হয় আওয়ামী লীগের টানা সাড়ে ১৫ বছরের শাসন। এরপর গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে ভারতে আশ্রয় নেওয়া শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেয় ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। অনেক বিশ্লেষক পুরো ঘটনাটিকে আওয়ামী লীগের জন্য বড় বিপর্যয় বলে মনে করেন।

আগস্টের তিনটি স্মরণীয় ঘটনা

আগস্ট মাসে আওয়ামী লীগের ইতিহাসের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে। প্রথমটি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট, যখন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে হত্যা হন। তিনি ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন নেতাও। শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার ঘটনা দলটির রাজনৈতিক ইতিহাসে এতটাই গভীর প্রভাব ফেলে যে, আগস্টকে তারা 'শোকের মাস' হিসেবে পালন করে এসেছে।

দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে ২০০৪ সালের ২১শে আগস্ট। ঢাকায় আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা হয় এবং অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান দলটির তৎকালীন সভাপতি শেখ হাসিনা। তৃতীয় ঘটনাটি হলো ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট, যখন গণঅভ্যুত্থানের মুখে পতন হয় আওয়ামী লীগের শাসন।

১৫ আগস্ট: শেখ মুজিব হত্যাকাণ্ড এবং ঘুরে দাঁড়ানো

৫১ বছর আগে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পরিবারের বেশিরভাগ সদস্যসহ বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানকে ঢাকায় তার ধানমন্ডির বাসভবনে হত্যা করা হয়। তার দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা তখন বিদেশে, ফলে এই দু'জনই কেবল প্রাণে বাঁচেন।

বিশ্লেষকদের মতে, শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পেছনে একক কোনো কারণ ছিল না। সদ্য স্বাধীন হওয়া যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে অর্থনৈতিক চরম অব্যবস্থাপনা, চুয়ান্নের ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের ধাক্কা, একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন (বাকশাল), রক্ষীবাহিনীর অতিরিক্ত ক্ষমতা ও দমনপীড়ন এবং দুর্নীতির ব্যাপক বিস্তার সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক মহলে ক্ষোভ তৈরি করেছিল। এ সবের মধ্যেই পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট ভোর পাঁচটার দিকে একদল সেনা কর্মকর্তা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তাকে সপরিবারে হত্যা করে এবং ক্ষমতার পালাবদল ঘটায়।

লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ তার 'বেলা-অবেলা' বইতে লিখেছেন, "বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শুধু আওয়ামী লীগের প্রাণপুরুষ ছিলেন না, বাংলাদেশের রাজনীতির নাটাইটা তার হাতেই ছিল। এক সময়ে তার ইশারায় সবাই উঠতেন, বসতেন, ছুটতেন।"

কিন্তু তৃতীয় বিশ্বের অনেক রাজনীতিকের মতোই জনপ্রিয়তা বজায় রেখে তিনি দক্ষতার সঙ্গে সরকার চালাতে পারেননি উল্লেখ করে মহিউদ্দিন আহমদ লেখেন, "জনপ্রশাসনে তিনি স্বস্তিতে ছিলেন না। তার পছন্দের লোকদের তিনি প্রশাসনের শীর্ষ পদে বসিয়েছিলেন। দেশ চালানোর জন্য দলকে ব্যবহার করেছেন বেশি। তাকে নিয়ে ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতির জন্ম হয়েছিল।"

শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার সময় খন্দকার মোশতাক আহমদ ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। হত্যাকাণ্ডের পর ওই দিনই তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন। আওয়ামী লীগের কোনো কোনো নেতা তখন খন্দকার মোশতাকের সরকার এবং পরবর্তী সরকারগুলোতে যোগ দেন।

দলটির সংকট ও পুনরুত্থান

এর আড়াই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে, তেসরা নভেম্বর মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনাকারী প্রবাসী মুজিবনগর সরকারের চার জাতীয় নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এম মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামারুজ্জামানকে কারাগারে হত্যা করা হয়। ফলে স্বাধীনতার মাত্র কয়েক বছরের মাথায় আওয়ামী লীগ একদিকে শীর্ষ নেতৃত্বের বড় একটি অংশ হারায়, অন্যদিকে দলটির ভেতরেও দেখা দেয় বিভক্তি ও নেতৃত্বের সংকট।

তবে সাংগঠনিক সংকটে পড়লেও আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দল হিসেবে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়নি। তারা ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছিল, তবে প্রক্রিয়াটি ছিল বেশ দীর্ঘ। দলটির ভেতরে নেতৃত্বের কোন্দল থাকলেও শেখ মুজিবকে হত্যার পর অন্যান্য নেতারা দলকে সংগঠিত করার চেষ্টা করেছেন। পরে ১৯৮১ সালে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতেই তাকে সর্বসম্মতিক্রমে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয় এবং পঁচাত্তরের পর ওই বছরের ১৭ মে প্রবাস থেকে সর্বপ্রথম দেশে ফেরেন তিনি। এরপর ৪৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে দলটির সভাপতি পদেই রয়েছেন শেখ হাসিনা।

জনমনে আওয়ামী লীগের প্রতি সহানুভূতি

পঁচাত্তরের হত্যাকাণ্ডের পর আওয়ামী লীগের রাজনীতির ওপর আনুষ্ঠানিক কোনো নিষেধাজ্ঞা ছিল না। কিন্তু "সেইসময় দেশে আওয়ামীবিরোধী অবস্থা বিরাজ করেছিল, শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকারীদের বড় প্রভাব ছিল, দেশে ভাঙনের সংস্কৃতি ছিল। এই কারণে দলটির নেতাকর্মীরা তখন দলীয় পরিচয় নিয়ে সামনে আসেননি," বলছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. জোবাইদা নাসরীন।

তবে শেখ মুজিব হত্যাকাণ্ড আওয়ামী লীগের প্রতি জনমনে সহানুভূতি তৈরিতে ভূমিকা রেখেছিল বলে মনে করেন তিনি। তার মতে, "বাংলাদেশে এটা অনস্বীকার্য সত্য যে শেখ মুজিবের নেতৃত্বে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধ তখন মানুষের কাছে দগদগে স্মৃতি। প্রতিদিনকার জীবনযাপনে তখন স্বজন হারানোর বেদনা ছিল। তাই এই হত্যাকাণ্ড মানুষের মনে গভীর প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছিল। সেই স্মৃতি ও সহানুভূতি পরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফিরে আসার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে।"

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. এস এম শামীম রেজাও বলেন, "সেই সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন রাজনৈতিক

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is আওয় ম ল গ ও আগস ট?

আওয় ম ল গ ও আগস ট is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does আওয় ম ল গ ও আগস ট matter?

আওয় ম ল গ ও আগস ট matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.