আরও ১০ সংসদীয় কমিটি গঠন, একটিরও সভাপতি পদ পায়নি বিরোধী দল
১৩তম জাতীয় সংসদের কমিটি গঠনে নতুন অধ্যায়: বিরোধী দলের দরজায় আটকেই পড়েছে সভাপতি পদ
Todaybangladeshnews.com – আরও ১০ স সদ য় কম ট - ১৩তম জাতীয় সংসদের কার্যক্রম ধীরে ধীরে তার কাঠামোগত পূর্ণতা লাভ করছে। সংসদীয় কমিটি গঠনের দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় আরও একটি মাইলফলক পেরিয়ে গেছে রোববার ৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায়। এই দিনে একযোগে দশটি নতুন কমিটির গঠন অনুমোদিত হয়েছে, যা সংসদের মোট ৫০টি কমিটির মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই দশটির যেকোনো একটিতেও বিরোধী দলের কোনো সদস্যকে সভাপতি পদে বসানো হয়নি — একটি বিষয় যা সংসদীয় গণতন্ত্রের ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
বিরোধী দলের বাদপাঠ: সংসদীয় প্রথা নাকি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত?
সংসদীয় কমিটির সভাপতি পদ কেবল একটি সম্মানসূচক পদ নয়; এটি কমিটির কাজের দিকনির্দেশনা, তদারকি ও প্রতিবেদন প্রণয়নে প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করে। বাংলাদেশের সংসদীয় প্রথায়, বিরোধী দলের প্রতিনিধিকে কমিটির সভাপতি পদ দেওয়া একটি স্বীকৃত অভ্যাস। তবে বর্তমান ১৩তম সংসদের ক্ষেত্রে এই প্রথা প্রায় সম্পূর্ণ উপেক্ষিত হয়েছে।
এ পর্যন্ত গঠিত ৩৬টি কমিটির মধ্যে মাত্র একটিতে — সরকারি হিসাব কমিটিতে — বিরোধী দলের সদস্যকে সভাপতি করা হয়েছে। বাকি ৩৫টির সবগুলোতেই সরকারি দলের সদস্যরাই এই পদ দখল করেছেন। নতুন গঠিত এই দশটি কমিটির ক্ষেত্রেও একই প্যাটার্ন ধরে রাখা হয়েছে। সংসদীয় বিশ্লেষকদের মতে, কমিটির সভাপতি পদে বিরোধী দলের অংশগ্রহণ না থাকলে তদারকি কার্যক্রমের স্বাধীনতা ও বহুমতের প্রতিফলন দুর্বল হয়।
দশটি নতুন কমিটির সভাপতি: কারা পেলেন দায়িত্ব
সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি আলাদাভাবে প্রতিটি কমিটির গঠন প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। সবগুলোই কণ্ঠভোটে অনুমোদিত হয়। এই দশটি কমিটির সভাপতি পদে নিযুক্ত সদস্যদের তালিকা নিম্নরূপ:
খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি করা হয়েছে আবদুস সালাম পিন্টুকে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির দায়িত্ব পেলেন আবুল খাসের ভূঁইয়া। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি হলেন মুন্সী রফিকুল আলম। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদে বসেছেন এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব।
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির দায়িত্ব পেলেন জুনুল আবদিন ফারুক। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি খাসরুল কবির খোকন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মাহমুদা হাবীবা। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির দায়িত্ব পেলেন বরকতউল্লা বুলু। পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবদুল ওয়াদুদ ভূঁঞা।
কৃষি কমিটির পুনর্গঠন: বিএনপির শাহাদাত হোসেনের নতুন দায়িত্ব
এই দিনেই কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির পুনর্গঠনও সম্পন্ন হয়। আগের সভাপতি গৌশ্বর চন্দ্র রায়ের বদলে বিএনপির সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেনকে এই কমিটির সভাপতি করা হয়েছে। এটি বিরোধী দলের সদস্যকে কমিটির শীর্ষ পদে বসানোর একটি বিরল উদাহরণ, যদিও এটি পুনর্গঠনের প্রেক্ষাপটে এসেছে।
সংসদীয় কমিটির ভূমিকা ও বর্তমান অবস্থা
বাংলাদেশের সংসদে মোট ৫০টি কমিটি রয়েছে। এর মধ্যে ৩৯টি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি, যা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের বাজেট, নীতি ও কার্যক্রম তদারকি করে। বাকি ১১টি বিষয়ভিত্তিক কমিটি, যা নির্দিষ্ট জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গবেষণা ও সুপারিশ প্রণয়ন করে। এই কমিটিগুলোই সংসদের তদারকি শক্তির মূল স্তম্ভ।
এ পর্যন্ত গঠিত ৩৬টি কমিটির মধ্যে এই দশটি যুক্ত হওয়ায় সংসদের কাঠামোগত প্রসারণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি এসেছে। তবে বাকি ১৪টি কমিটির গঠন এখনও বাকি। সংসদীয় কার্যক্রমের পূর্ণ কার্যকরীতা নির্ভর করে প্রতিটি কমিটির সময়মতো গঠন ও কার্যকলাপের ওপর।
সংসদীয় কমিটি হলো গণতান্ত্রিক তদারকির প্রাথমিক একক। এর সভাপতি পদে বহুদলীয় প্রতিনিধিত্ব না থাকলে তদারকির স্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ হয় — এটি বিশ্বব্যাপী সংসদীয় প্রথার একটি মৌলিক নীতি।
বিরোধী দলের পক্ষ থেকে এই বাদপাঠ নিয়ে প্রত্যাশিত প্রতিক্রিয়া এখনও স্পষ্টভাবে সামনে আসেনি। তবে সংসদীয় গণতন্ত্রের স্বাভাবিক প্রবাহে বিরোধী দলের কার্যকর অংশগ্রহণ অপরিহার্য। কমিটির সভাপতি পদ কেবল একটি রাজনৈতিক পুরস্কার নয়; এটি নীতি তদারকি, বাজেট পর্যালোচনা ও জনগণের প্রতিনিধিত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ মেকানিজম। এই প্রেক্ষাপটে বর্তমান সিদ্ধান্তের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সংসদীয় গণতন্ত্রের গভীরতাকেই নির্ধারণ করবে।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is আরও ১০ স সদ য় কম ট?আরও ১০ স সদ য় কম ট is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does আরও ১০ স সদ য় কম ট matter?আরও ১০ স সদ য় কম ট matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.