কিরগিজস্তানে এক মঞ্চে পুতিন-শি, কী বার্তা দিচ্ছে ২৫ বছরের এসসিও
বিশকেকে পুতিন-শির সম্মিলিত উপস্থিতি: এসসিওর পঞ্চম দশকের নতুন অধ্যায়
Todaybangladeshnews.com – ক রগ জস ত ন এক মঞ - কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সোমবার, ৩১ আগস্ট, সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলন শুরু হয়েছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংসহ এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশের সর্বোচ্চ নেতারা এই মঞ্চে একত্রিত হচ্ছেন। সংগঠনের প্রতিষ্ঠার ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ায় এবারের সম্মেলন কেবল একটি সাধারণ বৈঠক নয় — এটি এসসিওর ভূমিকা, পরিধি ও ভাষা বদলে দেওয়ার একটি নির্ণায়ক মুহূর্ত।
অর্থনৈতিক জোট থেকে জিওপলিটিক্যাল প্ল্যাটফর্ম
১৯৯৬ সালে যখন সাংহাইতে এই সংগঠনের ভিত্তি স্থাপিত হয়, তখন তার মূল উদ্দেশ্য ছিল সীমান্ত এলাকায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং পারস্পরিক বাণিজ্য-অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানো। প্রতিষ্ঠাকালীন ঘোষণায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল যে সংগঠনটি কোনো তৃতীয় রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পরিচালিত কোনো জোট নয়। তবে গত দশকের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে যে এই ঘোষণার বাইরে এসসিও ক্রমশ চীন ও রাশিয়ার 'বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্ব' ভিশনের একটি কেন্দ্রীয় প্রচারমাধ্যমে রূপান্তরিত হয়েছে।
গত বছরের সম্মেলনে পুতিন ইউক্রেন যুদ্ধের পেছনে পশ্চিমা দেশগুলোর ভূমিকা নিয়ে সরাসরি আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করেছিলেন। একই প্ল্যাটফর্মে শি জিনপিং 'ভয় দেখানোর কর্মকাণ্ড'ের নিন্দা করেছিলেন — একটি বক্তব্য যা বিশ্লেষকরা যুক্তরাষ্ট্র-চীন উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে পড়েন। এই ধরনের বক্তব্য এবারের সম্মেলনেও পুনরাবৃত্তি পাবে কি না, তা বিশ্বের নজরদারিতে রয়েছে।
ইরান ও তুরস্ক: নতুন ভূমিকা, নতুন প্রশ্ন
এবারের সম্মেলনে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপ এরদোğan-এর উপস্থিতি নিশ্চিত। ইরান ২০২৩ সালে এসসিওর পূর্ণ সদস্যপদ লাভ করেছে, যা সংগঠনের জিওস্ট্র্যাটেজিক গভীরতা বাড়িয়েছে। দেশটি রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সামরিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে এবং চীনের সঙ্গে জ্বালানি খাতে ব্যাপক সহযোগিতায় জড়িত। সম্মেলনের ফাঁকে পেজেশকিয়ান পুতিনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সুযোগ পেতে পারেন। এর আগে জুলাই মাসে এসসিওর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের কাউন্সিল বৈঠকের সময় দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও একে অপরের সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন।
তুরস্কের ক্ষেত্রে অবস্থা ভিন্ন। দেশটি এসসiওর পূর্ণ সদস্য নয়, বরং সংলাপ অংশীদার হিসেবে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। তবুও এরদোğan-এর উপস্থিতি তুরস্কের এশিয়া-কেন্দ্রিক নীতির একটি স্পষ্ট সংকেত।
সদস্যপদের বর্তমান চিত্র
বর্তমানে এসসিওতে ১০টি পূর্ণ সদস্য দেশ রয়েছে। এছাড়া ১৫টি দেশ সংলাপ অংশীদার হিসেবে সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্কিত — তাদের মধ্যে তুরস্ক, সৌদি আরব ও কাতার অন্তর্ভুক্ত। ভারত ও পাকিস্তান পূর্ণ সদস্য হিসেবে সম্মেলনে অংশ নেওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে। সংগঠনের নিজস্ব হিসাব অনুযায়ী এসসিও বিশ্বের প্রায় ৪০ শতাংশ জনসংখ্যা এবং বৈশ্বিক মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ২৫ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে। এই পরিসংখ্যানই সংগঠনকে 'পশ্চিমের বিকল্প' হিসেবে উপস্থাপনের ভিত্তি দেয়।
ওয়াশিংটনের বাণিজ্য-আঘাত: বেসেন্টের চীন-বক্তব্য
এসসিও সম্মেলনের ঠিক আগেই যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত এসেছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট রোববার রয়টার্সকে বলেছেন, জি-২০ সদস্য দেশগুলোকে চীনের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্কের শর্ত নতুন করে পর্যালোচনা করতে উৎসাহিত করার প্রস্তুতি তিনি নিচ্ছেন।
বিশ্ব এমন একটি চীনকে মেনে নিতে পারে না, যার বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলার।
বেসেন্ট চীনের এই বিশাল বাণিজ্য উদ্বৃত্তকে 'টেকসই নয়' বলে চিহ্নিত করেছেন। তাঁর যুক্তি হলো, চীনের অর্থনীতি বর্তমানে বেশ দুর্বল অবস্থায় আছে এবং দেশটি এই সংকট থেকে মুক্তি পেতে রপ্তানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করছে। তাই চীনকে বাণিজ্য ভারসাম্যের দিকে ফিরিয়ে আনতে হবে — এটিই বেসেন্টের মূল দাবি।
রোববার যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত জি-২০ অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরদের বৈঠকের ফাঁকে বেসেন্ট চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক পিপলস ব্যাংক অব চায়নার গভর্নর প্যান গংশেং-এর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পরিকল্পনাও জানিয়েছেন। তবে ওই বৈঠকের বিষয়বস্তু বা বিস্তারিত তিনি প্রকাশ করেননি।
পঞ্চম দশকের প্রেক্ষাপট
২৫ বছর পূর্ণ হওয়ায় এবারের সম্মেলন কেবল একটি দ্বিবার্ষিক বৈঠক নয়। এটি একটি প্রশ্নের উত্তর খোঁজার মঞ্চ: এসসিও কি এখনো একটি এশিয়া-কেন্দ্রিক স্থিতিশীলতা-সংস্থা, নাকি এটি হয়ে উঠেছে পশ্চিমা প্রতিযোগিতার একটি প্রতি-গঠন? পুতিন ও শির এক মঞ্চে বসার দৃশ্যই এই প্রশ্নের সবচেয়ে সরল দৃশ্যায়ন। ইরানের সদস্যপদ, তুরস্কের সংলাপ-অংশীদারিত্ব, এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য-চাপ — এই তিনটি স্তম্ভ এবারের সম্মেলনের প্রকৃত ভূমিকা নির্ধারণ করবে।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is ক রগ জস ত ন এক মঞ?ক রগ জস ত ন এক মঞ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does ক রগ জস ত ন এক মঞ matter?ক রগ জস ত ন এক মঞ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.