Todaybangladeshnews
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

ডিজিটাল প্রতারণায় সাব্বির আহমেদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা

Published July 24, 2026 · Updated July 24, 2026 · By Mary Brown - todaybangladeshnews.com

Foto : Mary Brown - todaybangladeshnews.com

ডিজিটাল প্রতারণা: সাব্বির আহমেদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা

Todaybangladeshnews.com – ড জ ট ল প রত রণ - বাংলাদেশে প্রতারণা যেন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন ডিজিটাল মোড়কে যে প্রতারণার বিশাল জাল বোনা হচ্ছে, তাতে কোনো প্রভাবশালী বা 'রাঘব বোয়াল' নয়—প্রতিদিনই ধরা পড়ছে ও সর্বশান্ত হচ্ছে এ দেশের মধ্যবিত্ত, নিম্ন-মধ্যবিত্ত তরুণ ও সর্বহারা সাধারণ মানুষ। আর এই নিরীহ মানুষদের পথে বসিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে দুবাইয়ে বিলাসী জীবনযাপন করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে প্রবাসি সাব্বির আহমেদের বিরুদ্ধে।

প্রতারণার নেটওয়ার্ক ও আত্মসাৎকৃত অর্থ

স্থানীয় সূত্র ও প্রাপ্ত নথিপত্র সূত্রে জানা যায়, মৌলভীবাজারের খলিলপুরের জাবাল মিয়ার বাইরের (বাসুদেবশ্রী) বাসিন্দা সাব্বির আহমেদ (৩০) দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রতারণার নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন। তিনি বিভিন্ন ব্যক্তি ও স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের নাম ভাঙিয়ে বিপুল আর্থিক সুযোগ-সুবিধা বাগিয়ে নেন। মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা সংগ্রহ করলেও তা নির্ধারিত কোনো প্রতিষ্ঠানে জমা না দিয়ে পুরোটাই আত্মসাৎ করেন।

সাব্বির আহমেদের জাল কেবল নিজ জেলা মৌলভীবাজারে সীমাবদ্ধ ছিল না; রাজশাহী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট এবং খাগড়াছড়ি জেলাজুড়ে তিনি প্রতারণার বিস্তার ঘটান। ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে ১১ লাখ, ৭ লাখ এবং ৬ লাখ টাকা করে কিস্তিতে এবং চুক্তিপত্রের মাধ্যমে সর্বমোট আনুমানিক দুই কোটি টাকা হাতিয়ে নেন।

দুবাইয়ে পলায়ন ও ভুয়া চেকের ঘটনা

পরবর্তীতে পাওনাদারদের চাপ বাইরে ও পরিস্থিতি প্রতিকূল দেখলে হাতিয়ে নেওয়া অর্থ নিয়ে তিনি দুবাইয়ে পালিয়ে যান। সম্প্রতি রাজশাহীর ভুক্তভোগী চুন্নু জানান, ডিজিটাল প্রতারক সাব্বির আহমেদ 'বিলিয়ন মার্কেটস' (Billion Markets)-এর নাম ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন।

এর মধ্যে কেবল চুন্নুর কাছ থেকেই ৩৯,০০০ মার্কিন ডলার এবং নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অপর এক ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ৩০,০০০ মার্কিন ডলার বাগিয়ে নেন তিনি।

অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পর থেকে ভুক্তভোগীরা হোয়াটসঅ্যাপ ও ইমোতে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও সাব্বিরের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। যোগাযোগে ব্যর্থ হয়ে ভুক্তভোগীরা শেষপর্যন্ত আইন ও মিডিয়ার দ্বারস্থ হয়েছেন।

আইনি ব্যবস্থা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

প্রতারক সাব্বির পাওনা পরিশোধের নামে ডাচ-বাংলা ব্যাংক লিমিটেডের (বিজয় নগর শাখা ও বোয়ালিয়া শাখা) একাধিক ভুয়া বা পর্যাপ্ত ফান্ডহীন চেক প্রদান করেছিলেন, যা পরবর্তীতে ব্যাংকে জমা দিলে 'Insufficient Fund' বা অপর্যাপ্ত তহবিলের কারণে ডিজঅনার বা বাউন্স হয়। এই ঘটনার রাজশাহী বোয়ালিয়া থানায় নেগোসিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট অ্যাক্টের ১৩৮ ধারার মামলা (মামলা নং সি/২০২৪) দায়ের করা হয়েছে।

এছাড়া ঢাকার রাতুল নামের এক ভুক্তভোগীসহ সিলেট ও দেশের বিভিন্ন স্থানে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি মামলায় বিজ্ঞ আদালত সাব্বির আহমেদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা (Warrant of Arrest) জারি করেছেন।