Todaybangladeshnews
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

‘ডিজিটাল রূপান্তরে কোনো প্রান্তিক জনগোষ্ঠী পিছিয়ে থাকবে না’

Published July 30, 2026 · Updated August 2, 2026 · By Susan Taylor - todaybangladeshnews.com

Foto : Susan Taylor - todaybangladeshnews.com

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ডিজিটাল অগ্রযাত্রায় নতুন দিকনির্দেশনা

Todaybangladeshnews.com – ড জ ট ল র প ন - ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে কোনো শ্রেণি যেন পিছিয়ে না পড়ে—এই লক্ষ্যে সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এই বিষয়টি স্পষ্ট করে বলেন যে, প্রান্তিক সম্প্রদায়ের ডিজিটাল দক্ষতা বৃদ্ধি করাই এখনকার প্রধান অগ্রাধিকার। বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি এই মতামত প্রকাশ করেন। গ্রামীণফোন, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ এবং টেলিনরের যৌথ উদ্যোগে 'ডিজিটাল ইনক্লুশন ফর মার্জিনালাইজড কমিউনিটিস' নামক কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন।

বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তর অবশ্যই অন্তর্ভুক্তিমূলক হতে হবে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠী যাতে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা, সরকারি সেবা এবং ডিজিটাল অর্থনীতিতে অর্থবহভাবে অংশ নিতে পারে, সেজন্য তাদের ডিজিটাল দক্ষতা সক্ষম করে তোলা জরুরি। অবকাঠামো ও প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের পাশাপাশি মানুষের দক্ষতা, জ্ঞান ও আত্মবিশ্বাস বাড়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

লক্ষ্যমাত্রা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

মন্ত্রী জানান যে, ২০২৮ সালের মধ্যে আটটি সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর ৪০ লাখ মানুষকে এই কর্মসূচির আওতায় আনার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তা ডিজিটাল বাংলাদেশের ভিশনকে আরও শক্তিশালী করবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্য অর্জনে এই ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

অনুষ্ঠানে গ্রামীণফোন তাদের এই উদ্যোগের দ্বিতীয় পর্যায়ের আনুষ্ঠানিক সূচনা করে। একই সঙ্গে প্রথম পর্যায়ের অর্জনগুলোও তুলে ধরা হয়। গ্রামীণফোন জানায় যে, প্রথম পর্যায়ের কাজে দেশের ৩২টি জেলায় ৩৩ লাখের বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানো হয়েছে, যার প্রায় ৬৮ শতাংশই নারী ও কিশোরী। দ্বিতীয় পর্যায়ের লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে ২০২৮ সালের মধ্যে ৪০ লাখ মানুষকে পৌঁছানো এবং সুবিধাভোগীদের অন্তত ৭০ শতাংশ নারী ও কিশোরী রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিশেষ অতিথি ও প্যানেল আলোচনা

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. এমদাদ উল বারী (অব.) বলেন যে, কার্যকর ডিজিটাল সংযোগ শুধু নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে ডিজিটাল সাক্ষরতা এবং প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহারও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, গ্রামীণফোনের এই উদ্যোগ ডিজিটাল বৈষম্য কমাতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের একটি সফল উদাহরণ।

অনুষ্ঠানে গ্রামীণফোনের হেড অব এনভায়রনমেন্ট, সোশ্যাল অ্যান্ড গভর্ন্যান্স (ইএসজি) ফারহানা ইসলাম এবং ডিজিটাল ইনক্লুশন লিড তাজরিবা খুরশীদ উদ্যোগটির অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। পরে ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি নিয়ে আয়োজিত এক প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কবিতা বোস, জিএসএমএর সিনিয়র মার্কেট এনগেজমেন্ট ম্যানেজার গগনদীপ মনচান্দা, টেলিনর এশিয়ার চিফ কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার মনীষা ডোগরা, গ্রামীণফোনের চিফ কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার তানভীর মোহাম্মদ এবং চিফ মার্কেটিং অফিসার ফারহা নাজ জামান।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইয়াসির আজমান উদ্যোগটির কয়েকজন সুবিধাভোগীর সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তারা জানান, এই কর্মসূচির মাধ্যমে অর্জিত ডিজিটাল দক্ষতা তাদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও ডিজিটাল অর্থনীতিতে অংশগ্রহণের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে। প্রথম পর্যায়ের কাজে ইন্টারনেটভিত্তিক শিক্ষা, অনলাইন সরকারি সেবা গ্রহণ, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস, ডিজিটাল জন্মনিবন্ধন এবং ডিজিটাল মাধ্যমে আয় বৃদ্ধির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।