ডেঙ্গুর ঝুঁকিতে যে পাঁচ জেলা
ঢাকার বাইরে ডেঙ্গুর ঝুঁকিতে পাঁচ জেলা
Todaybangladeshnews.com – ড ঙ গ র ঝ ক ত - পৃথিবীতে প্রায় তিন হাজার প্রজাতির মশা বিদ্যমান। বাংলাদেশে তাদের মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিকর তিনটি হলো অ্যানোফিলিস, এডিস ও কিউলেক্স। স্ত্রী অ্যানোফিলিসের কামড়ে ম্যালেরিয়া ছড়ায়, কিউলেক্সের কামড়ে ফাইলেরিয়া বা গোদরোগ হয়, আর এডিসের কামড়েই ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া সংক্রমিত হয়।
বর্তমান পরিস্থিতি
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এই মুহূর্ত পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট ৭৬ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। আক্রান্তের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৬ হাজারেরও বেশি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) রেকর্ড অনুযায়ী, ১৯ আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ১১ হাজার ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বিবিসি বাংলা ২০ আগস্ট বৃহস্পতিবার একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করে। আগস্টের প্রথম তিন সপ্তাহে হাসপাতাল ভর্তির হার জুলাইয়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। জুলাইয়ে ভর্তি হয়েছিলেন ৯ হাজার ২০০-এরও বেশি রোগী।
গত বছরগুলির ধারা থেকে এবারের চিত্র ভিন্ন। ডেঙ্গুর প্রকোপ আর মূলত রাজধানী ঢাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ঢাকার বাইরের একাধিক জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা আগের চেয়ে অনেক বেশি। কোন এলাকাগুলোতে রোগটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এবং সামনে কোথায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে — এই প্রশ্নে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে জমে থাকা পানি এডিস মশার প্রজননের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে, ফলে সংক্রমণ আরও বাড়বে কি না, সেই আশঙ্কাও বাড়ছে।
ঝুঁকিতে পাঁচ জেলা
ডিজিএইচএস-এর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ঢাকার বাইরে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু সংক্রমণ ঘটেছে নিম্নলিখিত পাঁচ জেলায়:
খুলনা — আক্রান্ত ১,৬০০-এরও বেশি; মৃত্যু ১৪ জন। সংক্রমণ ও মৃত্যু উভয় দিক থেকেই এ জেলা সর্বোচ্চ।
চট্টগ্রাম — আক্রান্ত ১,৩৯১ জন; মৃত্যু ৩ জন।
পিরোজপুর (বরিশাল) — আক্রান্ত ১,২০০-এরও বেশি; মৃত্যু ১ জন।
ময়মনসিংহ — আক্রান্ত ৯২৪ জন; মৃত্যু ৬ জন।
গাজীপুর (ঢাকা বিভাগ) — আক্রান্ত ৭২০ জন; মৃত্যু শূন্য। তবে একই বিভাগের মানিকগঞ্জে একজন ডেঙ্গুতে প্রাণ হারিয়েছেন।
ঢাকার নিজস্ব হিসাব: আক্রান্ত ৭ হাজারেরও বেশি, মৃত্যু ৩৪ জন। সংখ্যায় ঢাকাই সর্বোচ্চ, কিন্তু ঢাকার বাইরের জেলাগুলোর হার আগের বছরগুলির তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
জনস্বাস্থ্য ও মহামারী বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বরাত দিয়ে বলছেন, এই বছর উপকূলীয় অঞ্চলে — বিশেষ করে বরগুণা, ঝালকাঠী ও পিরোজপুরে — এডিস মশার লার্ভার উপস্থিতি বেশি পাওয়া গেছে। তার মতে, উপকূলীয় এলাকার লবণাক্ততা এবং বছরজুড়ে বৃষ্টির পানি মাটির পাত্রে জমা রাখার প্রয়োজনীয়তা এটি ঘটাচ্ছে।
কোনো পাত্র বা স্থানে ৪৮ ঘণ্টার বেশি পানি জমে থাকলে সেখানে এডিস মশার ডিম পাড়া ও লার্ভা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। সংরক্ষিত পানিতে ক্লোরিন ট্যাবলেট ব্যবহার করলে মশার লার্ভা ধ্বংস করা সম্ভব।
তবে সব লবণাক্ত এলাকায় একইভাবে সচেতনতা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে না, এমন পরিস্থিতিতে কিছু এলাকায় প্রচার-প্রচারণা হলেও বাকি অংশে তা পৌঁছাচ্ছে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।
গাজীপুরের ক্ষেত্রে ঘনবসতি ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করে ডা. মুশতাক বলছেন, নিম্ন আয়ের বিপুলসংখ্যক মানুষের বসবাসের কারণে ওই এলাকার পরিবেশ ব্যক্তিগতভাবে পরিষ্কার রাখা সম্ভব নয়। সেখানের পরিবেশের মান উন্নয়নে কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ অপরিহার্য। ময়মনসিংহেও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও পানি জমে থাকার বিষয় ভূমিকা রাখতে পারে, তবে এটি খতিয়ে দেখা দরকার বলে তিনি মনে করেন।
চট্টগ্রাম বিভাগ বাংলাদেশের আট বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পাহাড়া। বিশেষজ্ঞদের মতে, পাহাড়ি বা গাছপালাযুক্ত এলাকায় বৃষ্টির পানি জমে থাকে। কিন্তু ডেঙ্গুর বিস্তারের মূল কারণ সেটি নয়।
চট্টগ্রাম আর ঢাকা একই রকম। পাহাড়ি এলাকা জনবিরল হলে কোনো সমস্যা নাই। কিন্তু যখন সেটি ঘনবসতিপূর্ণ হয়, তখনই ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়ে।
কীটতত্ত্ববিদ ও জাতীয় নদী কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান মনজুর আহমেদ চৌধুরীর মতে, উপকূলীয় এলাকা ছাড়াও যেসব এলাকার পানিতে আর্সেনিক বেশি, সেসব স্থানেও ডেঙ্গু সংক্রমণ বেশি হতে পারে। তার ব্যাখ্যা: আর্সেনিকপ্রবণ এলাকার মানুষ অনেক সময় আর্সেনিকমুক্ত নিরাপদ নলকূপ থেকে পানি সংগ্রহ করে বিভিন্ন পাত্রে জমিয়ে রাখেন। দীর্ঘ সময় ধরে এভাবে পানি সংরক্ষণ করলে সেসব পাত্র এডিস মশার প্রজননস্থলে পরিণত হতে পারে।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is ড ঙ গ র ঝ ক ত?ড ঙ গ র ঝ ক ত is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does ড ঙ গ র ঝ ক ত matter?ড ঙ গ র ঝ ক ত matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.