Uncategorized

তরুণদের মধ্যে বাড়ছে একাকিত্ব, এক দশকে বন্ধু হারানোর হার ৫ গুণ

Untitled10

ইংল্যান্ডের তরুণ প্রজন্মের সামাজিক জীবনে গভীর ফাটল: বন্ধুত্বের অভাব, মানসিক সংকট ও ডিজিটাল বন্দীত্ব

Todaybangladeshnews.com – তর ণদ র মধ য ব ড়ছ – ২০১০-২০১২ সালে ইংল্যান্ডের ১৬-২৪ বছর বয়সী তরুণদের মাত্র ৪ দশমিক ১ শতাংশই স্বীকার করতেন যে মানসিক স্বাস্থ্যের কারণে তারা আগের মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে কম কাজ করতে পেরেছেন। বর্তমানে সেই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ দশমিক ৮ শতাংশে — প্রায় চার গুণের ঊর্ধ্ব। এই চিত্র কেবল একটি পরিসংখ্যান নয়; এটি একটি পুরো প্রজন্মের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতার প্রতিফলন, যেখানে একাকিত্ব, মানসিক চাপ ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতা একে অপরের সঙ্গে জড়িত হয়ে তরুণদের জীবনের প্রতিটি স্তরে প্রবেশ করেছে।

বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে দশকের সবচেয়ে তীব্র পতন

ইনস্টিটিউট ফর পাবলিক পলিসি রিসার্চ (আইপিপিআর)-এর সাম্প্রতিক গবেষণা উন্মোচন করেছে যে ইংল্যান্ডে বর্তমানে প্রতি ২০ জন তরুণের মধ্যে একজন স্বীকার করছেন তাঁদের কোনো ঘনিষ্ঠ বন্ধু নেই। এক দশক আগে, অর্থাৎ ২০১৪ সালে, এই অনুপাত ছিল প্রতি ১০০ জনে মাত্র একজন। অর্থাৎ, ঘনিষ্ঠ বন্ধুহীন তরুণের হার এক দশকে বেড়েছে পাঁচ গুণ।

এর সঙ্গে-সঙ্গে ১৬ থেকে ২১ বছর বয়সীদের মধ্যে অন্তত তিনজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু রাখা এমন ব্যক্তির সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। আর ১৪-১৫ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে নিজের বন্ধুত্ব সম্পর্কে সন্তুষ্টির মাত্রাও এক দশক আগের তুলনায় নেমে এসেছে। এই তিনটি সূচক একসাথে দেখলে পরিষ্কার হয় যে তরুণদের সামাজিক বন্ধনীর মৌলিক কাঠামোই ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে।

ডিজিটাল বন্দীত্ব ও ‘ডুমস্ক্রলিং’-এর ভূমিকা

গবেষণায় তরুণদের সামাজিক বিচ্ছিন্নতার অন্যতম মূল কারণ হিসেবে ‘ডুমস্ক্রলিং’-কে চিহ্নিত করা হয়েছে। ১৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী তরুণরা প্রতিদিন গড়ে চার ঘণ্টারও বেশি সময় অনলাইনে কাটাচ্ছেন। ইউটিউব, টিকটক, ইনস্টাগ্রাম ও স্ন্যাপচ্যাট — এই প্ল্যাটফর্মগুলো তাদের দৈনন্দিন জীবনের কেন্দ্রবিন্দুতে বসে আছে।

গবেষণায় অংশ নেওয়া এক তরুণ নিজের দিনের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছিলেন:

ঘুম থেকে ওঠার পর প্রথম কাজ টিকটক দেখা। খাওয়া ও গোসলের সময়ও টিকটক দেখি, আর বাসে ওঠার পরও একই কাজ করি।

এই বর্ণনা কেবল ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নয় — এটি একটি প্রজন্মের আচরণগত প্যাটার্নের সংকোচন। যখন প্রতিটি জাগ্রত মুহূর্ত একটি স্ক্রিনের দিকে মুখোমুখি হয়ে যায়, তখন মুখোমুখি মানবিক সম্পর্ক গড়ে তোলার সুযোগই প্রায় শূন্য হয়ে যায়।

অর্থনৈতিক চাপ ও কৃচ্ছ্রসাধনের ঐতিহাসিক প্রভাব

ডিজিটাল নির্ভরতার পাশাপাশি আরও কয়েকটি কাঠামোগত চাপ তরুণদের সামাজিক জীবনকে বিকৃত করছে। দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকা কৃচ্ছ্রসাধনমূলক নীতি, করোনাভাইরাস মহামারির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব, জীবনযাত্রার ব্যয়ের তীব্র বৃদ্ধি, ভাড়া বা বাসস্থানের মূল্যে ঊর্ধ্বমুখী চাপ এবং প্রাপ্তবয়স্ক জীবনে প্রবেশের বাধা — এসব মিলিয়ে একটি জটিল চাপ-ব্যবস্থা তৈরি করেছে। আইপিপিআর-এর মতে, বর্তমান প্রজন্মের বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতা মূলত ‘বিচ্ছিন্নতা’ দ্বারা চিহ্নিত। তরুণরা নিজেদের থেকে, একে অপরের থেকে এবং বৃহত্তর সমাজ থেকেও বিচ্ছিন্ন বোধ করছেন।

মানসিক স্বাস্থ্যের সংকট: সংখ্যার পেছনের বাস্তবতা

সামাজিক বিচ্ছিন্নতার সঙ্গে মানসিক চাপের হারও সমান্তরালভাবে বেড়েছে। ১৬-২৪ বছর বয়সী নারীদের প্রায় ৪৭ শতাংশ এবং একই বয়সী পুরুষদের ৩৬ শতাংশ এখন মানসিকভাবে চাপে থাকার নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করছেন। এই চাপের প্রভাব সরাসরি কর্মক্ষমতার ওপর পড়ছে, যা উপরে উল্লিখিত চার গুণ বৃদ্ধির পরিসংখ্যানে প্রতিফলিত।

গবেষণার পদ্ধতি ও বিশ্লেষকদের মতামত

আইপিপিআর এই গবেষণা পরিচালনা করেছে ১৫০ তরুণের গভীর সাক্ষাৎকার এবং বিভিন্ন সরকারি তথ্যের বিশ্লেষণের মাধ্যমে। সংস্থাটির সহযোগী পরিচালক আভনি মরজারিয়া এই পরিস্থিতি সম্পর্কে বলেন:

তরুণদের এই পরিস্থিতিকে তাদের দুর্বলতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কৃচ্ছ্রসাধন, মহামারি ও ডিজিটাল বিপ্লবের মধ্যে একটি পুরো প্রজন্ম বেড়ে উঠেছে। একই সঙ্গে বাসস্থান কেনা ও প্রাপ্তবয়স্ক জীবনে প্রবেশের খরচও বেড়েছে।

আইপিপিআরের শিশু ও তরুণবিষয়ক প্রধান এলি হ্যারিস আরও সরাসরিভাবে মন্তব্য করেন:

পটভূমি যাই হোক না কেন, অনেক তরুণই প্রতিটি পর্যায়ে মানসিক চাপ, একাকিত্ব ও নানা বাধার মুখোমুখি হচ্ছেন। শুধু শিক্ষা খাতে নতুন উদ্যোগ বা আরও কিছু পেশাজীবী নিয়োগ করে এই সংকটের সমাধান সম্ভব নয়।

নীতিগত প্রতিক্রিয়া: সামাজিক মাধ্যম নিষেধাজ্ঞার প্রশ্ন

এই সংকটের প্রতিক্রিয়া হিসেবে যুক্তরাজ্য সরকার ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার উদ্যোগ নিয়েছে। অস্ট্রেলিয়া এই পথে এক ধাপ এগিয়ে গিয়ে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ করার প্রথম দেশ হিসেবে আইনি পদক্ষেপ নেবে।

এই নীতিগত পদক্ষেপগুলো তরুণদের ডিজিটাল নির্ভরতা কমাতে একটি কাঠামোগত হস্তক্ষেপ হিসেবে কাজ করতে পারে। তবে বিশ্লেষকদের সতর্কতা স্পষ্ট: একটি প্ল্যাটফর্ম বন্ধ করলেই সামাজিক বন্ধনীর অভাব পূরণ হয় না। বন্ধুত্ব গড়ে তোলার সুযোগ, মানসিক স্বাস্থ্য সেবায় সহজলভ্যতা, বাসস্থানের সাশ্রয়ী মূল্য এবং প্রাপ্তবয়স্ক জীবনে প্রবেশের বাধা কমানো — এসব সমন্বিত পদক্ষেপ ছাড়া তর

Frequently Asked Questions

What is তর ণদ র মধ য ব ড়ছ?

তর ণদ র মধ য ব ড়ছ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does তর ণদ র মধ য ব ড়ছ matter?

তর ণদ র মধ য ব ড়ছ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *