ত্বিশার মৃত্যুর আগে শেষ ৯০ মিনিটে কী ঘটেছিল, চার্জশিটে প্রকাশ
সিবিআই-র ৬০০ পৃষ্ঠার চার্জশিটে ত্বিশা শর্মার শেষ ৯০ মিনিটের পূর্ণ চিত্র
Todaybangladeshnews.com – ত ব শ র ম ত য - ১৪ আগস্ট কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআই দাখিল করে একটি বিশাল চার্জশিট — মোট ৬০০ পৃষ্ঠা। ভোপালের ৩৪ বছর বয়সী ত্বিশা শর্মার মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই নথিতে তার স্বামী সমর্থ সিং ও শাশুড়ি গিরিবালা সিং-এর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের মানসিক নির্যাতন এবং আত্মহত্যা-প্ররোচনার অভিযোগ আনা হয়েছে। ভারতীয় ন্যাশনাল সংহিতার ৮৫, ১০৮ ও ৩(৫) ধারার আওতায় এই মামলা গড়ে উঠেছে।
মৃত্যুর রাতে ঘড়ির কাঁটার প্রতিটি মুহূর্ত
চার্জশিটের বর্ণনা অনুযায়ী, ১২ মে-র রাতে ঘটনাপ্রবাহ শুরু হয় রাত ৯টা ২০ মিনিটের দিকে। তখন ত্বিশা ফোনে তার ননদ রাশি আব্রারের সঙ্গে কথা বলছিলেন এবং কাঁদছিলেন।
মাত্র ১৬ মিনিট পর, রাত ৯টা ৩৬ মিনিটে, রাশিকে হোয়াটসঅ্যাপে একটি বার্তা পাঠান তিনি। এর চার মিনিট পর সিসিটিভি ফুটেজে তাকে একা ছাদের দিকে এগোতে দেখা যায়।
রাত ৯টা ৪১ মিনিটে বাবাকে ফোন করেন ত্বিশা। স্বামীর আচরণকে তিনি
আক্রমণাত্মক ও সহিংস
বলে বর্ণনা করেন এবং দ্রুত বাবা-মাকে তার কাছে আসতে অনুরোধ জানান। রাত ১০টা ৫ মিনিটে মাকেও একই ধরনের অভিযোগ তোলেন।
রাত ১০টা ২৩ মিনিটের দিকে সিসিটিভিতে সমর্থ ও গিরিবালাকে ছাদের দিকে যাতে দেখা যায়। এরপর ত্বিশাকে নিচে নামিয়ে এআইআইএমএস ভোপালে নিয়ে যাওয়া হয়। রাত ১০টা ৫৫ মিনিটের দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বিয়ের পর থেকেই শুরু মানসিক যন্ত্রণা
তদন্ত সংস্থার দাবি, বিবাহের পর থেকেই ত্বিশা নিয়মিত মানসিক নির্যাতনের শিকার ছিলেন। চার্জশিটে উল্লেখ আছে যে স্বামী তার অতীতের সম্পর্ক নিয়ে অবমাননাকর ভাষা ব্যবহার করতেন এবং চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলতেন। শাশুড়ির কাছে অভিযোগ করলেও তিনি ছেলের পক্ষ নিয়ে ত্বিশাকে আরও উসকে দিতেন বলে অভিযোগ।
দাম্পত্য কলহের পাশাপাশি অর্থনৈতিক বিরোধও ছিল। ত্বিশার প্রাণে ২০ লাখ রুপি শেয়ার বিনিয়োগ ছিল। ওই অর্থ যৌথ ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তরের জন্য সমর্থ ও গিরিবালা চাপ দিচ্ছিলেন — মৃত্যুর দিনও সেই চাপ চলছিল বলে চার্জশিটে বলা হয়েছে।
ত্বিশার একাধিক হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় মাকে জানানো হয়েছিল যে তার জীবন
নরক হয়ে যাচ্ছে
চিকিৎসকের কাছেও তিনি উদ্বেগ ও মানসিক চাপের কথা জানিয়েছিলেন। গর্ভপাতের সিদ্ধান্ত নিয়েও পরিবারের চাপ ও বিরোধের মধ্যে ছিলেন তিনি, সিবিআই-র তদন্তে তা প্রকাশ পেয়েছে।
মৃত্যুর আগের দিনগুলোর সংকেত
১২ মে-র আগের দিনগুলোতে ত্বিশা বারবার মাকে তার মানসিক অবস্থার কথা জানান এবং ভোপাল ছেড়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। মৃত্যুর দিন সকালে তিনি বাবা-মার কাছে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে স্বামীর সঙ্গে দাম্পত্য কাউন্সেলিং-এ গেলেও পরিবারের সদস্যদের জানান যে সম্পর্কের উন্নতির কোনো সম্ভাবনা তিনি দেখছেন না।
মৃত্যুর রাতে মা-র সঙ্গে কথা বলার পরও পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে ফোন করা হচ্ছিল বলে চার্জশিটে উল্লেখ আছে।
ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক মূল্যায়ন
ত্বিশার মৃত্যুর পর ময়নাতদন্ত নিয়ে বিতর্ক হয়। প্রথম ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে পরিবার প্রশ্ন তুললে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের নির্দেশে এআইআইএমএস দিল্লির মেডিকেল বোর্ড দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত করে। সিবিআই-র চার্জশিটে ওই প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, মৃত্যু আত্মহত্যা হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে এবং মৃত্যুর আগে শারীরিক হামলার কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ শারীরিকভাবে হত্যার অভিযোগ এই মামলার ভিত্তি নয় — দীর্ঘদিনের মানসিক নির্যাতন তাকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দিয়েছিল বলে তদন্ত সংস্থার দাবি।
ত্বিশার ডায়েরি, সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে করা ফরেনসিক মনস্তাত্ত্বিক মূল্যায়নে দীর্ঘস্থায়ী মানসিক ক্ষতি ও সহনশীলতার অভাবের চিত্র পাওয়া গেছে বলে চার্জশিটে উল্লেখ আছে।
তদন্ত এখনো চলছে
তবে তদন্ত এখনো সম্পন্ন হয়নি। ত্বিশার ব্যবহৃত আইফোনের ফরেনসিক তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি বাবার ডিভিআর, সিসিটিভি ফুটেজ এবং অভিযুক্তদের কণ্ঠের নমুনা ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is ত ব শ র ম ত য?ত ব শ র ম ত য is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does ত ব শ র ম ত য matter?ত ব শ র ম ত য matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.