Todaybangladeshnews
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

দুই সপ্তাহে ১৬ বোমা, সাভার কি জঙ্গিদের নতুন ঘাঁটি?

Published August 14, 2026 · Updated August 14, 2026 · By Matthew Thomas - todaybangladeshnews.com

Foto : Matthew Thomas - todaybangladeshnews.com

সাভারে দুই সপ্তাহে ১৬ বোমা উদ্ধার: জঙ্গিদের নতুন ঘাঁটি?

Todaybangladeshnews.com – দ ই সপ ত হ ১৬ ব - আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা এখন আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখছেন না সাভার-আশুলিয়া অঞ্চলে একের পর এক বোমা ও বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনাকে। একটি ঘটনার সূত্র ধরে আরেকটি আস্তানা আবিষ্কারের পর, সেখান থেকে বিপুলসংখ্যক বিস্ফোরক উদ্ধারের খবর আসে। পরদিনই আবার নতুন বোমা পাওয়া যায়। এই ধারাবাহিক ঘটনার পেছনে নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবির একটি চক্রের নাম উঠে এসেছে।

তদন্তে বারবার পাঁচজনের নাম উঠে আসছে—মামুন ওরফে 'বোমারু' মামুন, শেখ আল আমিন, মোহাম্মদ আরিফ, রাকিব ও বাপ্পী। তাদের মধ্যে দুজন ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার হলেও মূল সন্দেহভাজন মামুনসহ কয়েকজন এখনো পলাতক। তদন্তকারীদের হাতে আসা তথ্য বলছে, এই চক্র শুধু বিস্ফোরক মজুতই করছিল না; সদস্যদের মধ্যে যোগাযোগ ও অর্থ লেনদেনে প্রচলিত ব্যবস্থার বাইরে যাওয়ার চেষ্টা ছিল।

গ্রেপ্তার আরিফের জিজ্ঞাসাবাদে নতুন তথ্য

গ্রেপ্তার মোহাম্মদ আরিফকে জিজ্ঞাসাবাদে এমন একটি ওয়েবসাইট ও অ্যাপ ব্যবহারের তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র। পুলিশের দাবি, নিজেদের মধ্যে যোগাযোগে তারা 'প্রটেকটেড টেক্সট' (পিটি) নামে একটি ওয়েবসাইট এবং অর্থ লেনদেনে 'ইলিমেন্ট' নামের একটি অ্যাপ ব্যবহার করতেন। আরিফের দেওয়া তথ্যেই যেন খুলতে থাকে একটি অদৃশ্য নেটওয়ার্কের দরজা।

গত মঙ্গলবার সাভারের হেমায়তপুর থেকে মোহাম্মদ আরিফকে গ্রেপ্তারের পর তদন্তে বড় ধরনের মোড় আসে। পুলিশের দাবি, তার কাছ থেকে একাধিক বোমা ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধারের পর জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সাভারের দক্ষিণ শ্যামপুরের একটি বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। সেখানে একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক ও বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।

সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা

এই ঘটনার গত বুধবার সাভার মডেল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়েছে। পুলিশের ওপর হামলার প্রস্তুতি, নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্যপদ গ্রহণ এবং সংগঠনটির আদর্শ ও সত্তাকে সমর্থনের অভিযোগে ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার অজ্ঞাতনামা আরও ছয় থেকে সাতজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার আসামিরা হলেন মোহাম্মদ আরিফ ওরফে ইমরান, নাজমুল হাসান মামুন ওরফে 'বোমারু মামুন', আক্কাস আলী, কামাল হোসেন ডাক্তার, বাপ্পী ও রাকিব।

সিটিটিসির এডিসি (ইনভেস্টিগেশন) মাঈন উদ্দীন চৌধুরী মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মামলায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একাধিক ধারা উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্তের গতিপথ ও সাংগঠনিক যোগসূত্র

তদন্তকারীরা বলছেন গ্রেপ্তার মোহাম্মদ আরিফকে জিজ্ঞাসাবাদে নব্য জেএমবির সদস্যদের যোগাযোগ ও অর্থ লেনদেনের বিষয়ে তথ্য পেয়েছেন। তদন্তকারীদের ধারণা, ওই বাড়িটি শুধু বিস্ফোরক রাখার জায়গা নয়, চক্রটির কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘাঁটি হতে পারে। তবে বাড়িটির প্রকৃত ব্যবহার এবং সেখানে আর কারা যাতায়াত করতেন, তা এখনো তদন্তাধীন।

এর পরদিনই সাভারের আরেক এলাকায় একটি প্রেশার-কুকারসদৃশ বোমা উদ্ধারের ঘটনার উদ্বেগ আরও বাড়ায়। বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল সেটি নিয়ন্ত্রিতভাবে নিষ্ক্রিয় করে। পরপর দুই দিনের এসব ঘটনার পৃথক মামলা হলেও তদন্তের গতিপথ এখন একই দিকে ঘটনাগুলোর মধ্যে কোনো সাংগঠনিক যোগসূত্র রয়েছে কি না।

বিভিন্ন এলাকায় একই চক্রের সংশ্লিষ্টতা

সিটিটিসি ও তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, গত ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত কেরানীগঞ্জ, যাত্রাবাড়ী, কুমিল্লা, সায়েদাবাদ, মতিঝিল ও আশুলিয়ার কয়েকটি ঘটনায় একই চক্রের সদস্যদের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। কোথাও বিস্ফোরণ ঘটেছে, কোথাও পরিত্যক্ত অবস্থায় বোমা উদ্ধার হয়েছে, আবার কোথাও পুলিশি তল্লাশির সময় হামলার ঘটনাও ঘটেছে।

বিশেষ করে মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে ছাতার ভেতর এবং আশুলিয়ার একটি দোকানের সামনে বোমা উদ্ধারের ঘটনায় ব্যবহৃত উপাদানের মধ্যে মিল পাওয়ার দাবি করেছে তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র। এ ধরনের মিলকে গুরুত্ব দিয়ে ঘটনাগুলোর সম্ভাব্য সাংগঠনিক যোগাযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বোমারু মামুন: পুনরায় সন্দেহভাজন

এই তদন্তের সবচেয়ে আলোচিত নাম নাজমুল হাসান মামুন ওরফে 'বোমারু মামুন'। পুলিশের দাবি, বোমা তৈরিতে দক্ষ এই ব্যক্তি আগে জঙ্গি কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। ২০১৭ সালের পান্থপথের হোটেল ওলিও বিস্ফোরণের ঘটনাতেও তার বিরুদ্ধে বোমা তৈরির অভিযোগ ছিল। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ওই মামলায় তিনি খালাস পাওয়ার পর কয়েক মাসের মধ্যেই নতুন করে বিভিন্ন বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় তার নাম সামনে আসে।

সিটিটিসির ভাষ্য অনুযায়ী, আরিফকে গ্রেপ্তারের পর পাওয়া তথ্যেই সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় মামুনের সম্পৃক্ততার বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তবে মামুনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে তদন্তে উঠে আসা অভিযোগগুলোর বিচারিক সত্যতা এখনো নির্ধারিত হয়নি।

পুলিশের পরিকল্পনা ও ইতিহাস

সাভার ও আশুলিয়ায় প্রায় দুই সপ্তাহের ব্যবধানে অন্তত ১৬টি বোমা উদ্ধারের তথ্য জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর পাশাপাশি ককটেল তৈরির সময় বিস্ফোরণ ও একটি রাজনৈতিক সমাবেশে বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটেছে। এসব ঘটনার পৃথক মামলা হলেও সব ঘটনার নেপথ্যে কারা এবং বিস্ফোরকগুলো কীভাবে ওই এলাকায় পৌঁছাচ্ছে—এ প্রশ্ন এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার নয়।

ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই দুইটি বড় বোমা উদ্ধারের পাশাপাশি বোমা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁর মতে, ঘনবসতি, শ্রমিক অধ্যুষিত এলাকা এবং ভাসমান মানুষের আধিক্যের সুযোগ নিয়ে অপরাধীরা এখানে আস্তানা গড়তে পারে। এ কারণে গোয়েন্দা নজরদারি, টহল, ভাড়াটিয়া যাচাই এবং স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা বাড়ানো হয়েছে।

সাভারে জঙ্গি তৎপরতার ইতিহাসও দীর্ঘ। ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট দেশজুড়ে সিরিজ বোমা হামলার দিন সাভারেও বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনা ঘটে। পরে ২০১০ সালেও সাভারে বড় ধরনের জঙ্গি অভিযান চালানো হয়েছিল। এই পটভূমিতে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সাভারকে আবার জঙ্গিদের নতুন ঘাঁটি হিসেবে চিহ্নিত করছে।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is দ ই সপ ত হ ১৬ ব?

দ ই সপ ত হ ১৬ ব is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does দ ই সপ ত হ ১৬ ব matter?

দ ই সপ ত হ ১৬ ব matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.