নারীর স্বাস্থ্যসেবায় ২৫০ মিলিয়ন ইউরো বিনিয়োগ করবে বাংলাদেশ ও ইআইবি
Todaybangladeshnews.com – ন র র স ব স থ - নারী ও কিশোরীদের স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন এবং দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও টেকসই করতে ২৫০ মিলিয়ন ইউরো বিনিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার ও ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংক (ইআইবি)। এ অর্থ দিয়ে মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা, জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যানসার শনাক্তকরণ এবং চিকিৎসাসহ বিভিন্ন জরুরি স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ করা হবে। ‘উইমেনস হেলথ ইনিশিয়েটিভ’ নামের এই কর্মসূচির আওতায় ২০২৭ থেকে ২০৩১ সালের মধ্যে প্রায় ৪ কোটি ৭০ লাখ নারী ও কিশোরীর জন্য স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য ইআইবির বিদ্যমান সরকারি ঋণ থেকে ২৫০ মিলিয়ন ইউরো ব্যবহার করা হবে। এর আগে ২০২১ সালে কোভিড-১৯ টিকাদান কর্মসূচির জন্য অনুমোদিত তহবিল পুনর্বিন্যাস করে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। কর্মসূচির আওতায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও রেফারেল ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পাশাপাশি জেলা হাসপাতাল এবং নিবিড় পরিচর্যা ও জরুরি চিকিৎসাসেবার সক্ষমতা বাড়ানো হবে। এর ফলে স্বাস্থ্যসেবার মান ও নির্ভরযোগ্যতা বাড়বে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশের সক্ষমতাও জোরদার হবে। উদ্যোগটি ঘোষণার সময় বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, নারী ও কিশোরীদের স্বাস্থ্য ও সুস্থতা দেশের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই কর্মসূচি একটি শক্তিশালী ও সমতাভিত্তিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার অঙ্গীকারের প্রতিফলন। এতে রোগ প্রতিরোধকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি নারীদের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংক ও জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে দেশের মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য বাস্তবায়নে সহায়তা পাওয়া যাবে। প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ উপদেষ্টা ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে শুধু রোগের চিকিৎসার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে রোগ প্রতিরোধ ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বেশি গুরুত্ব দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য। নতুন এই বিনিয়োগ সেই লক্ষ্য অর্জনের প্রচেষ্টাকে আরও এগিয়ে নেবে। নারীদের স্বাস্থ্যসেবায় দীর্ঘদিনের বিনিয়োগ ঘাটতি দূর করার ক্ষেত্রে কর্মসূচিটিকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। জাতীয় পর্যায়ের নেতৃত্ব, দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন অর্থায়ন ও কারিগরি দক্ষতার সমন্বয়ে এর মাধ্যমে সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুফল পাওয়ার আশা করা হচ্ছে। ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট মারেক মোরা বলেন, নারীর স্বাস্থ্যে বিনিয়োগের অর্থ হলো সুদৃঢ় পরিবার, অধিকতর সহনশীল সমাজ ও টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিনিয়োগ করা। বাংলাদেশ সরকার ও ইউএনএফপিএর সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে মানুষের জীবনমান উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন ও কারিগরি দক্ষতার সমন্বয়ে একটি কার্যকর মডেল গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে। ১৯৭৪ সাল থেকে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ইউএনএফপিএ এবং সংস্থাটির উদ্ভাবনী কর্মসূচি ‘উইমেনএক্স কালেক্টিভ’ এই উদ্যোগের পরিকল্পনা প্রণয়নে সহায়তা করেছে। কর্মসূচি বাস্তবায়নের সময়ও সংস্থাটি কারিগরি সহায়তা দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইউএনএফপিএর নির্বাহী পরিচালক ডিয়েনে কেইটা বলেন, নারীর স্বাস্থ্যে বিনিয়োগ টেকসই উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি। তবে এ খাতে অর্থায়ন এখনো প্রয়োজনের তুলনায় কম। জাতীয় নেতৃত্ব, উদ্ভাবনী অর্থায়ন ও কার্যকর কৌশলের সমন্বয়ে বড় পরিসরে অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব। বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে লাখো নারী ও কিশোরীর স্বাস্থ্যসেবায় পরিমাপযোগ্য, সমতাভিত্তিক ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সংস্থাটি কাজ করবে। বাংলাদেশ সরকার ১১ অক্টোবর সকাল ১১টায় জার্মানির বার্লিনে অনুষ্ঠিতব্য ওয়ার্ল্ড হেলথ সামিটে ইউএনএফপিএর একটি প্যানেল আলোচনায় এই উদ্যোগ তুলে ধরবে। স্বাস্থ্যব্যবস্থায় সংস্কারের পরিকল্পনা বাংলাদেশ সরকার জানিয়েছে, দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে রোগের চিকিৎসানির্ভর কাঠামো থেকে রোগ প্রতিরোধ ও স্বাস্থ্য উন্নয়নকেন্দ্রিক ব্যবস্থায় রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনে জনস্বাস্থ্য খাতে ব্যয় মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা ও রোগ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণে এক লাখ কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁদের ৮০ শতাংশ নারী হবেন। একই সঙ্গে সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে ২৫ হাজার পেশাদার ধাত্রী নিয়োগের মাধ্যমে মাতৃস্বাস্থ্য, নবজাতকের যত্ন ও প্রজননস্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংক ও ইউএনএফপিএ ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংক ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান এবং বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বহুপাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাংক। ২৭টি সদস্যরাষ্ট্রের সমন্বয়ে গঠিত এই ব্যাংক অবকাঠামো, জলবায়ু, প্রযুক্তি, সামাজিক উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন করে। অন্যদিকে, ইউএনএফপিএ জাতিসংঘের যৌন ও প্রজননস্বাস্থ্যবিষয়ক সংস্থা। বিশ্বের ১৫০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলে নারী, কিশোরী ও তরুণ-তরুণীদের স্বাস্থ্যসেবা, অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করে সংস্থাটি। পাশাপাশি সহিংসতা থেকে সুরক্ষা এবং যৌন ও প্রজননস্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্য ও সেবা পৌঁছে দিতে সরকারগুলোকে সহায়তা করে। এই কর্মসূচির কারিগরি সহায়তার জন্য জার্মানির ফেডারেল মিনিস্ট্রি ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিএমজেড) এবং বেসরকারি খাতের অংশীদারদের পূর্বপ্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে অন্তত ২৫ মিলিয়ন ইউরো অনুদান সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে ইউএনএফপিএ।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is ন র র স ব স থ?ন র র স ব স থ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does ন র র স ব স থ matter?ন র র স ব স থ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.