তিন বছরে ছয় মিলিয়ন: পাকিস্তান ও ইরান থেকে আফগানদের বাল্ক প্রত্যাবর্তন
Todaybangladeshnews.com – প ক স ত ন ইর ন – আফগানিস্তানের সীমান্তে প্রতিদিনই দৃশ্য একই রকম — লাঠি বা ক্রাচে ভর দিয়ে হেঁটে আসা বয়স্ক মানুষ, বুকে মুরগি বহন করা শিশু, আর সামান্য কিছু মালপত্র নিয়ে ট্রাকে উঠে আসা পরিবার। জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের হিসাব অনুযায়ী, গত প্রায় তিন বছরে পাকিস্তান ও ইরান থেকে আফগানিস্তানে ফিরেছেন প্রায় ৬০ লাখ মানুষ। এই সংখ্যা নিজেই একটি ছোট দেশের মোট জনসংখ্যার সমতুল্য। আফগানিস্তানে ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র চার্লি গুডলেক স্বীকার করেছেন, সাম্প্রতিক ইতিহাসে এত বিশাল পরিসরের প্রত্যাবর্তন তাঁরা কখনো দেখেননি।
তোরখামের দৃশ্য: ‘জিরো পয়েন্ট’-এর প্রতিদিন
পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তের তোরখাম চেকপোস্ট স্থানীয়ভাবে পরিচিত ‘জিরো পয়েন্ট’ নামে। এই একক পথ দিয়েই প্রতিদিন শত শত আফগান পরিবার দেশে প্রবেশ করছে। ফেরত আসা মানুষদের জন্য জাতিসংঘ ও বিভিন্ন ত্রাণ সংস্থা সেখানে তাঁবু স্থাপন করেছে, তবে জায়গা অত্যন্ত সীমিত এবং অনেক তাঁবু ইতোমধ্যে ছিঁড়ে গেছে। আশ্রয়ের অভাব, খাদ্যের ঘাটতি — এই পরিস্থিতিতে ফেরত আসা পরিবারগুলোর প্রথম দিনগুলোই সবচেয়ে কঠিন।
পরিবারের গল্প: নাজিরা, সারওয়ার ও জারিনা
৩৫ বছর বয়সী নাজিরা পাকিস্তানে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং সেখানেই পুরো জীবন কাটিয়েছেন। এবার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাকে আফগানিস্তানে ফেরত পাঠানো হয়েছে। সীমান্ত পার হওয়ার পর তিনি বলেন, নিজের দেশে এসে ভালো লাগছে। তবে পরমুহূর্তেই যোগ করেন:
আমি আগে কখনো আফগানিস্তানে আসিনি। এখানকার অনেক মানুষেরই খাওয়ার মতো পর্যাপ্ত রুটি নেই।
নাজিরার পরিবারের প্রায় সবাই এবার পাকিস্তান বা ইরান থেকে ফিরেছেন। তার আট বোন ও তাদের সন্তানদেরও এই বছর দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
অন্য দৃষ্টিকোণ থেকে সারওয়ারের অভিজ্ঞতা। ৪৫ বছর আগে সোভিয়েত বাহিনীর আফগানিস্তান অভিযানকালে তাঁর পরিবার পাকিস্তানে চলে যায়। এবার সাত ভাই ও তাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে প্রায় ৪০ জনের এই দলটি একটি পাকিস্তানি ট্রাকে সামান্য মালপত্র বহন করে সীমান্ত পেরিয়ে আসে। সারওয়ারের বক্তব্য:
আমাদের বাড়ি থেকে জোর করে বের করে দেওয়ায় খুব কষ্ট পেয়েছি। তবে একই সঙ্গে ভালোও লাগছে, কারণ অন্তত পাকিস্তানি পুলিশের হুমকি থেকে মুক্তি পেয়েছি।
৪০ বছর বয়সী জারিনার জন্য ফেরত আসা মানে সম্পূর্ণ শূন্যতা। ব্যবসা শুরু বা জীবিকা অর্জনের মতো কোনো সম্পদ নেই, এমনকি থাকার একটি তাঁবুও নেই। তালেবান শাসনে নারী ও মেয়েদের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ নিয়েও তিনি গভীর উদ্বিগ্ন। আফগানিস্তানে মেয়েদের মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠাশোনা নিষিদ্ধ থাকায় পরিবারের মেয়েদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর শঙ্কা অসীম।
সাবেক নিরাপত্তাকর্মীদের আতঙ্ক
শুধু সাধারণ পরিবার নয় — সাবেক আফগান নিরাপত্তাকর্মীদের মধ্যেও দেশে ফিরে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ইরান ও পরে পাকিস্তান থেকে ফেরত পাঠানো এক সাবেক নিরাপত্তাকর্মী বিবিসিকে জানান, তিনি ও তার পরিবার বাইরে যেতে ভয় পান। তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর সাবেক সরকারি কর্মকর্তা ও নিরাপত্তাকর্মীদের জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হলেও ওই ব্যক্তি এতে আস্থা রাখতে পারছেন না।
আমি তাদের সাধারণ ক্ষমার ওপর বিশ্বাস করি না। আমার অনেক সহকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে।
রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট
দশকের পর দশক ধরে যুদ্ধ, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে লাখ লাখ আফগান পাকিস্তান ও ইরানে আশ্রয় নিয়েছেন বা কাজের সন্ধানে গেছেন। ২০২১ সালের আগস্টে তালেবান ক্ষমতা দখলের পরও দেশ ছাড়া প্রবণতা অব্যাহত ছিল। তবে বর্তমানে পাকিস্তান ও ইরান অনিবন্ধিত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ায় তাদের বড় একটি অংশ বাধ্য হয়ে আফগানিস্তানে ফিরছেন। উভয় দেশই আফগানদের নিরাপত্তাঝুঁকি এবং অর্থনৈতিক বোঝা হিসেবে চিহ্নিত করছে। পাকিস্তান সরকার দাবি করে, আফগান নাগরিকদের হুমকি বা দুর্ব্যবহার ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো দাবি করে, ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ায় অনেক ক্ষেত্রে জোরপূর্বক অভিযান, বাড়িতে তল্লাশি ও গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে। ইউএনএইচসিআর বারবার জোর দিয়ে বলেছে, শরণার্থীদের প্রত্যাবর্তন ‘স্বেচ্ছা, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ’ হওয়া উচিত।
মানবিক সংকটের বড় চিত্র
বিদেশি সহায়তা কমে যাওয়ায় আফগানিস্তানের সংকট আরও তীব্র হয়েছে। জাতিসংঘের হিসাবে, চলতি বছর দেশটির প্রায় ২ কোটি ১৯ লাখ মানুষ — মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক — বেঁচে থাকার জন্য মানবিক সহায়তার প্রয়োজন। ইউনিসেফ জানিয়েছে, প্রায় ১০ লাখ শিশু জীবনসংকটাপন্ন অপুষ্টির ঝুঁকিতে আছে। চলতি বছর পাকিস্তান ও ইরান থেকে আরও প্রায় ১০ লাখ আফগানকে ফিরতে হবে, যা সরকারের ওপর চাপ আরও বাড়াবে।
আফগানিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি স্বীকার করেছেন, দেশে ফিরে আসা মানুষের কারণে সরকারের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে এবং দেশটির সহায়তার প্রয়োজন। তবে তার দাবি, দীর্ঘমেয়াদে এই প্রত্যাবর্তন আফগানিস্তান ও ফেরত আসা মানুষ উভয়ের জন্যই উপকারী হবে।
তালেবান সরকার মেয়েদের শিক্ষা নিয়ে আন্তর্জাতিক সমালোচনাকে অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে বিবেচনা করে। নারীদের ওপর কঠোর বিধিনিষেধের কারণে আন্তর্জাতিক সম্পর্কেও বহু ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছে। ক্ষমতায় ফেরার পাঁচ বছর পরও রাশিয়া ছাড়া কোনো দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দেয়নি। এই স্বীকৃতির অভাবই আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ার মূল কারণ, যা ফেরত আসা পরিবারগুলোর সংকটকে আরও গভীর করে তুলছে।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is প ক স ত ন ইর ন?
প ক স ত ন ইর ন is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does প ক স ত ন ইর ন matter?
প ক স ত ন ইর ন matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

