Todaybangladeshnews
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক আরোপ

Published July 24, 2026 · Updated July 24, 2026 · By Jessica Jones - todaybangladeshnews.com

Foto : Jessica Jones - todaybangladeshnews.com

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক নীতিতে ৬০ দেশের পণ্য প্রভাবিত

Todaybangladeshnews.com – ব ল দ শসহ ৬০ দ শ - বাধ্যতামূলক শ্রম নিষিদ্ধকরণ আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন ৬০টি দেশের আমদানিকৃত পণ্যের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে এই নতুন শুল্ক কার্যকর হবে। বর্তমান অস্থায়ী শুল্কের মেয়াদ শেষ হওয়ার ঠিক পরপরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

আইনি ভিত্তি ও শুল্কের হার

সুপ্রিম কোর্টের আগের সিদ্ধান্তের পর ১৫০ দিনের জন্য ১০ শতাংশ অস্থায়ী শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল। এবার ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারার আওতায় নতুন শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। আইনজ্ঞদের মতে, এই ধারার মাধ্যমে নেওয়া পদক্ষেপ আদালতে চ্যালেঞ্জ করা কঠিন হবে।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, যুক্তরাজ্য, কানাডা, মালয়েশিয়া ও মেক্সিকো সহ বেশ কয়েকটি দেশের পণ্যে ১০ শতাংশ শুল্ক বসানো হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান ও সুইজারল্যান্ডের পণ্যে পূর্বনির্ধারিত শুল্কের সঙ্গে সমন্বয় করে মোট ১০ বা ১২ শতাংশ শুল্ক ধার্য করা হবে। চীনসহ বাকি ৩৮টি দেশকে ১২ শতাংশ শুল্কের আওতায় আনা হয়েছে।

পণ্যের বাদ ও প্রতিক্রিয়া

ব্যাপক পরিসরে শুল্ক আরোপ করা হলেও বেশ কিছু পণ্যকে এর আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে তেল-গ্যাস, সার এবং নির্দিষ্ট কিছু খাদ্যদ্রব্য। পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ২৩২ ধারার আওতাবদ্ধ গুড়ি, ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও তামার মতো পণ্য এবং ইউএসএমসিএ শর্তপূরণ করা পণ্যগুলোও শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপে তাৎক্ষণিক ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বেশ কয়েকটি দেশ। নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসপেন বার্থ আইদে জানিয়েছেন, এই শুল্ক আরোপের কোনো যৌক্তিক ভিত্তি নেই। কারণ, তাদের দেশে বাধ্যতামূলক শ্রম রোধে স্পষ্ট আইন রয়েছে। অস্ট্রেলিয়া ও ব্রাজিলও এটিকে অন্যায্য আখ্যা দিয়ে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় এক শতাব্দী ধরে বাধ্যতামূলক শ্রম নিষিদ্ধের আইন রয়েছে এবং তা কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হয়। আমাদের বাণিজ্য অংশীদারদেরও একই পথ অনুসরণ করার সময় পার হয়ে গেছে।

ঠিক একই সময়ে নতুন এই শুল্ক কার্যকর হবে। তবে ট্রানজিটে থাকা পণ্যগুলো আগামী ২৮ জুলাই পর্যন্ত নতুন শুল্কের আওতামুক্ত থাকবে। মাত্র কয়েক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কের মুখে পড়া কানাডা কিছুটা নমনীয় প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। দেশটির বাণিজ্যমন্ত্রী ডমিনিক লেব্ল্যাঙ্ক জানিয়েছেন, তারা পারস্পরিক স্বার্থে আগামী সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা চালিয়ে যাবেন।

মানবাধিকার ও বাণিজ্য কৌশল

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রির এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, বাধ্যতামূলক শ্রমের ধুঁয়া তুলে নতুন শুল্ক আরোপ করা হলেও, এর পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্য কৌশল দেখছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে উইঘুরদের বন্দিশিবিরে আটকে রেখে কাজ করানোর অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে করে আসছে, যা বেইজিং বরাবরই অস্বীকার করে।

মূলত চীন থেকে আমদানি করা পণ্যে ২০২৫ সালের নভেম্বরের মধ্যে ধাপে ধাপে ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপের যে পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনের রয়েছে, নতুন এই পদক্ষেপকে তারই একটি অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর আগে শিল্পপণ্য বাদে চীনের পণ্যের ওপর শুল্কের হার ১০ শতাংশে নেমে এসেছিল।

একবার ৩০১ ধারায় শুল্ক বসানো হলে তা সমন্বয়ের অনেক সুযোগ থাকে। এটি মূলত ১০ শতাংশের ভিত্তি ধরে রাখার একটি জোরালো কৌশল এবং তারা মনে করছেন আদালতে এটি আইনি সুরক্ষা পাবে।

ট্রাম্প প্রশাসনের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, শুধু মেয়াদ শেষ হওয়া শুল্কের বিকল্প হিসেবে এটি আনা হয়নি; বরং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল থেকে বাধ্যতামূলক শ্রম নির্মূল করতেই উভয় দলের আইনপ্রণেতাদের আহ্বানে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ম্যাসাচুসেটসের ডেমোক্র্যাট গভর্নর মাউরা হিলি সতর্ক করে বলেছেন, এর ফলে পণ্যের দাম বেড়ে যাবে এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে।