বিশ্বকাপ ফাইনালে রেফারি হিসেবে দাঁড়ানোর সুযোগ পেয়েছেন জর্ডানের আদহাম মাখাদমেহ
ব শ বক প ফ ইন ল – ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালে চতুর্থ রেফারি হিসেবে নিযুক্ত হওয়া সুযোগ পেয়ে আদহাম মাখাদমেহ জর্ডান থেকে বিশ্বসেরা মঞ্চে উপস্থিত হয়েছেন। তার সাথে জড়িত হয়েছে বাংলাদেশের পরিচিত রেফারি তৈয়েব হাসানের রেফারিং ইতিহাস।
২০১৩ সালে নেপালের কাঠমান্ডুতে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়। সেই ম্যাচে তৈয়েব হাসান শামসুজ্জামান প্রথম দক্ষিণ এশিয়ার রেফারি হিসেবে প্রধান রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেখানে তার সহকারী হিসেবে চতুর্থ রেফারি হিসেবে কাজ করেছিলেন আজকের বিশ্বকাপ ফাইনালের রেফারি আদহাম মাখাদমেহ।
তৈয়েব হাসান বলেন, আদহাম মাখাদমেহের এই সাফল্য আমাদের এশিয়ান রেফারিং ইতিহাসে এক বিশাল গৌরব। খবরটি শোনার পর থেকেই আমি মনে পড়ছে সেই ২০১৩ সালের সাফ ফাইনালের স্মৃতি। তখন ও খুব তরুণ ছিল, কিন্তু মনোযোগ ও শেখার আগ্রহের দেখা মতো বোধ হত। আমার অধীনে ও চতুর্থ রেফারি হিসেবে কাজ করেছিল, আর আজ ও বিশ্বকাপের ফাইনালে দাঁড়িয়ে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করবে— এ কাজটি অগ্রজ এবং সাবেক সহকর্মী হিসেবে আমার জন্য এক অপূর্ব অনুভূতি।
তৈয়েব হাসান পেশায় শিক্ষক হিসেবে কাজ করেন। আন্তর্জাতিক ম্যাচ পরিচালনার সময় তিনি সাতক্ষীরার নিজ জেলায় বেশিরভাগ সময় কাটানো ভুলে যান।
দক্ষিণ এশিয়ার কোনও রেফারি এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করতে সুযোগ পেয়েছেন না। তবে তৈয়েব হাসান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের রেফারিং জগতে এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন।
ফিফা রেফারি হিসেবে ১৮ বছর এবং এএফসি এলিট প্যানেলে ১০ বছর দায়িত্ব পালন করেছেন তৈয়েব হাসান। তার জন্য ফিফা ও এএফসি প্রেসিডেন্টদের প্রশংসা পেয়েছেন। এশিয়ান ফুটবলে অনন্য অবদানের জন্য তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মর্যাদাপূর্ণ এএফসি মোমেন্টো রেফারিজেস অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন।
দেশের রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ক্রীড়া অনুভূতি নিখুঁত রেফারিং জগতে তৈয়েব হাসান এক অপূর্ব মাইলফলক। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী তার জন্য একাধিকবার রাষ্ট্রীয় পদক এবং সম্মাননা প্রদান করেছেন। জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার সহ তিনি বিশ্বাস করেন এশিয়ান ফুটবলের সাথে বেশি সম্মান লাভ করেছেন।
