Uncategorized

বয়স ৭৪, তাতে কী- রুনা লায়লা ইজ রুনা লায়লা!

বয়স ৭৪ ত ত ক র ন - বিস্ময়কর হলেও সত্য, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রতিষ্ঠিত ১৯৭৪ সালের পর প্রথমবারের মতো আয়োজন করা হলো উপমহাদেশের কিংবদন্তী শিল্পী রুনা

Desk Uncategorized
Published July 25, 2026
Reading time 1 minutes
Conversation No comments
Foto : Jessica Jones - todaybangladeshnews.com

বয়স ৭৪ ত ত ক র: রুনা লায়লার ইতিহাস সৃষ্টি

Todaybangladeshnews.com – বয়স ৭৪ ত ত ক র ন – বিস্ময়কর হলেও সত্য, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রতিষ্ঠিত ১৯৭৪ সালের পর প্রথমবারের মতো আয়োজন করা হলো উপমহাদেশের কিংবদন্তী শিল্পী রুনা লায়লার একক সংগীতানুষ্ঠান। ৬২ বছরের বর্ণাঢ্য সংগীতজীবন তাঁর। সামনে নভেম্বরে পা দেবেন ৭৫ বছরে। পৃথিবীর অসংখ্য মঞ্চে গান গাওয়া এই শিল্পীর জন্য শিল্পকলার দরজা খুলতে লেগে গেল পাঁচ দশকেরও বেশি সময়। আর সেই দীর্ঘ অপেক্ষার কথাটাই যেন এক মুহূর্তে বলে দিলেন তিনি নিজের স্বভাবসুলভ রসবোধে।

অনুষ্ঠানের উপস্থাপক, গুণী অভিনেতা, নির্মাতা ও চিত্রশিল্পী আফজাল হোসেন জানতে চেয়েছিলেন, তাঁকে নিয়ে শিল্পকলার এই প্রথম একক সংগীতানুষ্ঠান নিয়ে অনুভূতি কী? রুনা লায়লার সংক্ষিপ্ত উত্তর, “অবশেষে ডেকেছে, এটাই তো বেশি।” কিংবদন্তী শিল্পীর এমন উত্তরে কানাঘোষা পূর্ণ জাতীয় নাট্যশালার মিলনায়তনে ছড়িয়ে পড়ে হাসির রোল।

সংগীতযাত্রার নতুন অধ্যায়

এরপর শুরু হয় প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টার এক সংগীতযাত্রা, যেখানে গান, স্মৃতি, আবেগ আর ইতিহাস মিলেমিশে তৈরি করে এক অনন্য সন্ধ্যা। সংগীত পরিবেশনের আগে প্রথম পর্বে জীবনীধর্মী দুটি ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়। ভিডিও বার্তায় রুনা লায়লাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন বাপ্পা মজুমদার, ফোয়াদ নাসের, সাদেক আলী, নাজুক আলমগীর, ইমরান মাহমুদুল, আঁখি আলমগীর ও ঝিলিক।

রুনা লায়লা সুরকে করেছেন সাধনা, আর সাধনাকে করেছেন জীবন। সৃষ্টি যখন সাধনার দীপ্যমান হয়, তখন সেই শিল্পী আর কেবল ব্যক্তি থাকেন না; হয়ে ওঠেন এক অনন্ত সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার ও জীবন্ত প্রেরণা। — সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী

আলোচনা শেষে রুনা লায়লার হাতে তুলে দেওয়া হয় সম্মাননা স্মারক। বিশেষ সংগীতানুষ্ঠানের প্রথম গান হিসেবে কিংবদন্তী রুনা লায়লা বেছে নেন দেশাত্মবোধক গান ‘দেশের জন্য যারা দিয়ে গেছে প্রাণ, ভুলিনি আমরা’। গান শুরুর আগে গভীর শ্রদ্ধার স্মরণ করেন ভাষা আন্দোলনের শহীদ, মুক্তিযুদ্ধের বীর এবং স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য আত্মত্যাগী মানুষদের।

মঞ্চে কথার জাদু ছড়ান আফজাল হোসেন। রুনা লায়লার গায়কীকে সম্মান জানাতে গিয়ে তিনি স্মরণ করেন জীবনানন্দ দাশের সেই বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি, “সকলেই কবি নয়, কেউ কেউ কবি।” তারপর যোগ করেন, “রুনা লায়লার কণ্ঠ মাধুর্য আমাদের মোহিত করে, আমরা দিকহারা হই। তাঁর গান শুনে মনে হয়— সকলেই শিল্পী নয়, কেউ কেউ শিল্পী।” এই কথার পরই রুনা লায়লা গিয়ে ওঠেন তাঁর বহুল জনপ্রিয় ‘শিল্পী’ গানটি।

৭৪ বছর বয়সেও কেন তিনি এখনও লাইভ গান গাইতে ভালোবাসেন—সেটিও অকপটে জানালেন। শিল্পী জানান, “রেকর্ড করা গানের সঙ্গে ঠোঁট মেলানো আমার ভালো লাগে না। আমি এখনও দর্শকের সামনে সরাসরি গান গাইতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি।” বয়স ৭৪ ত ত ক র—রুনা লায়লা ইজ রুনা লায়লা! গানের ফাঁকে ফাঁকে আফজাল হোসেনের সঙ্গে আলাপচারিতার উঠে আসে তাঁর দীর্ঘ সংগীতজীবনের নানা অজানা গল্প।

বাংলাদেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরেই সংগীতের এক উজ্জ্বল নাম রুনা লায়লা। বাংলা, উর্দু, হিন্দি, ইংরেজিসহ ১৮টি ভাষার অসংখ্য কালজয়ী গান উপহার দিয়েছেন তিনি। নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম কিংবদন্তী সংগীতশিল্পী হিসেবে। এই আয়োজনের বিশেষ তাৎপর্য হলো, এটি উৎসর্গ করা হয়েছে বন্যার্ত মানুষের সহায়তায়। টিকিটের অর্থ যাবে সরকারের ত্রাণ তহবিলে।

Leave a Comment