Todaybangladeshnews
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

শব্দ ও সত্যের অবিনাশী কারিগর: অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক স্মরণে

Published July 9, 2026 · Updated July 21, 2026 · By Jessica Jones - todaybangladeshnews.com

Foto : Jessica Jones - todaybangladeshnews.com

শব্দ ও সত্যের অবিনাশী কারিগর: অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক স্মরণে

Todaybangladeshnews.com – শব দ ও সত য র অব - জগতে কিছু মানুষের যাওয়া কেবল শরীরের ক্ষয় হয় না, বরং একটি প্রজন্মের চিন্তার আলো নিভে যাওয়া মনে হয়। গত ৫ জুলাই ঢাকার মিরপুরের এক রেস্তোরাঁয় অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। সেই দুপুরে এই দুনিয়ার চিন্তার স্থির নক্ষত্রটি খসে পড়েছিল। তিনি অত্যন্ত সুদীর্ঘ এবং নির্মোহ জীবন যাচ্ছিলেন, যেখানে মেধা বিকিয়ে দেওয়া জলের মতো সহজ ছিল না, ক্ষমতার চাটুকারিতা দ্বারা আবুল কাসেম ফজলুল হক সামনে আসেন সত্যের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি সাথে।

অত্যন্ত গভীর জ্ঞান ও সত্যের প্রতি অকপট সমর্পণ ছিল তার জীবনের নিষ্পাপ লক্ষণ। শব্দের সাহিত্য সংগ্রামে তিনি একজন মুক্তির সংগ্রামী হিসেবে চিহ্নিত হন। সেই ক্ষমতার ক্ষয় ক্ষত পূর্ণ যুগে সেই ধারার শেষ প্রদীপ অবিনাশী মনে করা হয় তার চলে যাওয়া এবং আমাদের কাছে এক বিশাল দায়বদ্ধতা তিনি রেখে যান।

বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে স্মৃতির সেই মায়াবী বিকেল

বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে কথাশিল্পী শওকত ওসমানের ১০৮তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে স্যার আমার সঙ্গে যোগাযোগের সর্বশেষ দেখা ছিল সেই মহাকালের বিকেলে। তিনি শওকত ওসমানের সাহিত্য, তার চল্লিশের দশকের আধুনিকতা এবং মেহনতি মানুষের মুক্তির সংগ্রাম নিয়ে কথা বলছিলেন। কিন্তু তার বক্তৃতার স্বরূপ ছিল শুষ্ক রাজনৈতিক বা প্রাতিষ্ঠানিক কথা নয়; তা ছিল এক অনবদ্য কবিতার মতো।

প্রতিটি শব্দ যেন এক একটি মুক্তোর দানা, যা শ্রোতাদের হৃদয়ের গভীরে গিয়ে বিঁধছিল।

স্যার সাথে আমার সম্পর্ক ছিল শুধু শিক্ষক বা চিন্তাবিদের সঙ্গে নয়; সেটি ছিল গভীর আত্মিক ও পারিবারিক বন্ধনের মধ্যে। আমার প্রয়াত পিতা, কবি আমি রউফ ছিলেন স্যারের সমকালের এবং কিশোরগঞ্জের বাসিন্দা। বাবার পরিমণ্ডলে স্যারের অকৃত্রিম আত্মিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল যেহেতু তিনি আমার শৈশব থেকে স্নেহধন্য হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেছিলেন। পিতার মৃত্যুর পরও স্যার আমার মাথার ওপর বটবৃক্ষের মতো ছায়া হয়ে ছিলেন।

বাংলা একাডেমির সভাপতি পদ গ্রহণের কথা আলোচনা করতে গেলে আবুল কাসেম ফজলুল হক ছিলেন সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। ২০২৪ সালের অক্টোবরে অন্তর্বর্তী সরকার তাকে মনোনীত করে, তিনি সংস্কৃতির প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে গ্রহণ করেছিলেন কোনো ক্ষমতার মোহে নয়। ক্ষমতার সুবিধার মধ্যে তার অক্ষয় চরিত্র আমাদের জন্য সত্যের স্থান সূচিত করেছিল।

সেই সময় কেউ কাউকে খুশি করার জন্য কিংবা নিজের কোনো লাভ আদায় করার জন্য কখনো মিথ্যে বা চাটুকারিতামূলক কথা বলতেন