Todaybangladeshnews
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

১০ লাখ না, ৩ লাখ রোহিঙ্গা ফিরিয়ে নেবে মিয়ানমার

Published August 16, 2026 · Updated August 16, 2026 · By Charles Thomas - todaybangladeshnews.com

Foto : Charles Thomas - todaybangladeshnews.com

মিয়ানমারের ঘোষণা: ৩ লাখ রোহিঙ্গা ফিরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা

Todaybangladeshnews.com – ১০ ল খ ন ৩ ল খ - পশ্চিমাঞ্চলী রাখাইন রাজ্যের স্থানীয় বাসিন্দা হিসেবে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া তিন লক্ষাধিক রোহিঙ্গা শরণার্থীর পরিচয় যাচাই সম্পন্ন হয়েছে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে মিয়ানমারের জান্তা-সমর্থিত সরকার। রাজ্যটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এই শরণার্থীদের দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে মিয়ানমার। শনিবার, অর্থাৎ ১৫ আগস্ট এই বিষয়ে ঘোষণা দেয় মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এই ঘোষণার সময় রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট নবম বছরে পা দিয়েছে।

যাচাইকৃত শরণার্থীর সংখ্যা ও বিবরণ

মিয়ানমার জানিয়েছে, জুলাই মাসের শেষের দিকে বাংলাদেশ কর্তৃক সরবরাহকৃত তালিকার ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জন শরণার্থীর মধ্যে ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫৪৫ জনের তথ্য যাচাই করা হয়েছে। এই যাচাইকৃতদের মধ্যে ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জন রাখাইনের স্থানীয় বাসিন্দা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরো জানিয়েছে যে, ১ লাখ ১৩ হাজার ৫০৭ জনের তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া ৪ হাজার ২৪১ জনকে তথাকথিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত বলে শনাক্ত করা হয়েছে।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, রাখাইনে নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে যাচাইকৃত বাসিন্দাদের ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের সাথে কাজ চালিয়ে যাওয়া হবে। অথচ মন্ত্রণালয় রাখাইন থেকে ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে। তাদের দাবি, ২০১৭ সালের সহিংসতার পর ৫ লাখ ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষ বাংলাদেশে প্রবেশ করেছিল এবং ২ লাখেরও বেশি মানুষ উত্তর রাখাইনেই থেকে গেছে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও বর্তমান পরিস্থিতি

২০১৭ সালের আগস্ট মাসে রাখাইনে একটি রোহিঙ্গা বিদ্রোহী গোষ্ঠী সামরিক বাহিনীর চৌকিতে হামলা চালায়। এই হামলার জের ধরে জান্তা বাহিনী মিয়ানমারে দমন অভিযান শুরু করলে, সেখান থেকে পালিয়ে আসা কয়েক লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশের শিবিরে বসবাস করছে। ওই সামরিক অভিযানের মুখে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে চলে আসে। এর আগেও মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর একের পর এক সহিংসতার শিকার হয়ে লাখো রোহিঙ্গা কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশে বসবাস করছিল।

সে অভিযানের ব্যাপকতা, সাংগঠনিক রূপ ও নৃশংসতার কারণে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মিয়ানমারের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধন ও গণহত্যার অভিযোগ তোলে। বার্মা নামে পরিচিত মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের দেশটির ১৩৫টি বৈধ জাতিগত সংখ্যালঘুর একটি হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। বরং তারা রোহিঙ্গাদের 'বাঙালি' হিসেবে অভিহিত করে বোঝাতে চায় যে এরা বাংলাদেশের বাসিন্দা এবং মিয়ানমারে অবৈধভাবে বসতি স্থাপন করেছে।

২০২১ সালে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখল করে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর মিয়ানমারের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে ব্যাপক সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে ওঠে। ফলে শরণার্থীদের ফিরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা সফল হয়নি। ২০২৩ সালে ওই অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রাখাইন-ভিত্তিক জাতিগত গোষ্ঠী 'আরাকান আর্মি' ও সামরিক বাহিনীর মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়। এর ফলে জীবন বাঁচাতে আরো বেশি সংখ্যক শরণার্থী মরিচা হয়ে বাংলাদেশ ও অন্যান্য স্থানের দিকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সামরিক বাহিনীর কাছ থেকে বিভিন্ন এলাকা দখলের মাধ্যমে আরাকান আর্মি এখন রাখাইনের বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ করছে।

আন্তর্জাতিক পরিসরে প্রত্যাবাসন প্রচেষ্টা

সাম্প্রতিক সময়ে শরণার্থী শিবিরগুলোর দুরবস্থা, বিদেশি সহায়তা কমে আসা এবং মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার নিরাপদ কোনো সম্ভাবনা না থাকায় ক্রমবর্ধমান সংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থী ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে জরাজীর্ণ নৌকা করে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় যাওয়ার চেষ্টা করছে।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জুলাইয়ের শেষের দিকে জানিয়েছিলেন, প্রত্যাবাসন কর্মসূচির অংশ হিসেবে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত ৫,০০০ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার সম্মত হয়েছে।

তবে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা হান উইন অং ওই সময় অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) বলেছিলেন, এই প্রত্যাবাসন কর্মসূচিটি শুধুমাত্র মালয়েশিয়ার আটক কেন্দ্রে থাকা মিয়ানমারের যাচাইকৃত নাগরিকদের জন্যই প্রযোজ্য। তিনি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফিরিয়ে নেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের খবরটি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is ১০ ল খ ন ৩ ল খ?

১০ ল খ ন ৩ ল খ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ১০ ল খ ন ৩ ল খ matter?

১০ ল খ ন ৩ ল খ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.