বেনজীরের বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকায় কী আছে?
ব নজ র র ব র দ – বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দুর্নীতি ও অর্থপাচারের মামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ নিশ্চিত করেছেন যে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বেনজীরের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তদন্ত করছে।
অবৈধ সম্পদ ও অর্থপাচারের অভিযোগ
তদন্তে জানানো হয়েছে যে বেনজীর আহমেদ তার বৈধ আয়ের চেয়ে বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন। তার ঘোষিত সম্পদের তুলনায় অতিরিক্ত সম্পদ, গোপন সম্পদ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের তথ্য পাওয়া গেছে।
বেনজীর ও তার স্ত্রী এবং সন্তানদের নামে বিপুল পরিমাণ জমি, ফ্ল্যাট, ব্যাংক হিসাব, কোম্পানির শেয়ার ও বিদেশে সম্পদের তথ্য সামনে আসছে। দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধান অনুসারে তাদের পরিবারের প্রায় ৪৩ কোটি ৫০ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদের খতিয়ান প্রকাশ করা হয়েছে।
“বেনজীর তার দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে কয়েক কোটি টাকার সম্পদ গোপন করেছেন। তার নামে অন্তত ১১ কোটি ৪ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ পাওয়া গেছে,” দুদকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর দুদক বেনজীর এবং তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপনের অভিযোগ করে। দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর আদালতে তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। অভিযোগপত্র গ্রহণের পর চলতি বছরের মার্চ মাসে ঢাকার একটি বিশেষ আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
পরে মে মাসে তার অনুপস্থিতিতেই আদালতে অভিযোগ গঠন করা হয়। ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি করা হয় এবং আদালত তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেয়। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত হলে বেনজীর দুর্নীতি ও অর্থপাচারবিরোধী আইনের আওতায় কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে পারেন।
২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বেনজীর বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি রাইড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালক ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
