এই পৃথিবীর আরও বেশি জাভিয়ের বারদেম দরকার
এই প থ ব র আরও ব – হলিউডে অনেক পরিচিত সুপারস্টার ও মেগাস্টার রয়েছে, কিন্তু জাভিয়ের বারদেম তাদের সমান হয়নি। তিনি অন্য কোনো ক্ষেত্রে অভিনয়ের বাইরে পরিচিত হয়েছেন যেমন আসক্তি ও মেয়েদের সম্পর্কে নিয়ে আলোচনা করেন। অস্কারে তার সমালোচনামূলক মন্তব্য দিয়ে তিনি বিশ্ব জুড়ে বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন।
২০২৬ সালে অস্কারে বারদেম ফিলিস্তিনি প্রতিরোধের প্রতীক হান্দালা পরে একটি সাংবাদিকের যৌনতার প্রশংসা করেন। তার বক্তব্যে একটি মুহূর্তে পুরুষতন্ত্রের বিরুদ্ধে বার্তা ছড়ানো হয়। তিনি বলেন, “যুদ্ধের বদলে ফিলিস্তিনে শান্তি আসুক।” এই সংক্ষিপ্ত বাক্য তার আলোচিত রাজনৈতিক বার্তাগুলির মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ।
বারদেমের এই বিষয়টি সম্পূর্ণ নতুন নয়। জাতিসংঘে তিনি গাজার চলমান পরিস্থিতিকে গণহত্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন। সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা আবার আরেকটি অবৈধ যুদ্ধ দেখছি।” এটি তার স্পষ্ট মতামত নিয়ে কথা বলা হয়।
তিনি একটি অন্য ধরনের বাক্য দিয়ে বিশ্বের সামাজিক মানবিকতা নিয়ে আলোচনা করেন। তার মতে, আধুনিক মিডিয়া কোম্পানি এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অ্যালগরিদম তরুণদের চিন্তার সীমা কমিয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, “দ্রুত, সরলীকৃত ও জনতুষ্টিমূলক বার্তাগুলো তরুণদের ওপর বিশাল প্রভাব ফেলছে।”
তিনি কান চলচ্চিত্র উৎসবে ব্যক্তিগত অবস্থান নিয়ে পরিচালক রদ্রিগো সোরোগয়েনের মনস্তাত্ত্বিক ড্রামা “দ্য বিলাভড” নিয়ে মন্তব্য করেন। সিনেমাটিতে তিনি এক বয়স্ক নির্মাতার চরিত্রে অভিনয় করেন। সেই প্রসঙ্গ থেকে তিনি বাস্তব সমাজে নারীর সহিংসতার বিরুদ্ধে কথা বলেন।
“গড়ে প্রতি মাসে দুইজন নারী তাদের সাবেক স্বামী বা সঙ্গীর হাতে খুন হন। এটা ভয়ংকর। আমরা কি স্বাভাবিক? কিছু পুরুষ কেন মনে করে নারীরা তাদের সম্পত্তি?” তার মতে, এই মানসিকতাই বিশ্ব রাজনীতির ক্ষমতাকেন্দ্রে কাজ করে।
“ভয় অবশ্যই আছে। কিন্তু ভয় পেলেও কাজটা করতে হয়। আয়নায় নিজের চোখের দিকে তাকাতে পারতে হবে। আমার মা আমাকে এভাবেই মানুষ করেছেন। এর কোনো বিকল্প নেই, আর এর পরিণতি মেনে নিতেও আমি প্রস্তুত।”
তিনি গত রবিবার কান উৎসবে এই সাহসের কথা বলেন।
আগে তারকাদের সামনে শুধু পর্দার মানুষ হিসেবে দেখা হতো। কিন্তু আজকের পৃথিবীতে মানবিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তিনি নিজের মতাদর্শ নিয়ে দাঁড়িয়ে যেতে সাহসী হয়েছেন যেখানে অন্যান্য তারকারা নিজেদের সম্পর্কে কথা বলার বিপজ্জনক ভয় পেয়েছে।
