জন মশতবর ষ নত ন কর আল – চলতি বছর বাংলা রহস্য ও গোয়েন্দা সাহিত্যের জনপ্রিয় লেখক রোমেনা আফাজের জন্মশতবর্ষ পালিত হচ্ছে। তবে বিপুল পাঠকপ্রিয়তা অর্জন করলেও বাংলা সাহিত্যের মূলধারার মূল্যায়নে তিনি দীর্ঘদিন উপেক্ষিত থেকেছেন বলে মনে করেন সাহিত্য বিশ্লেষকেরা। মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া রোমেনা আফাজের শৈশব ও কৈশোর কেটেছে বগুড়ায়। মাত্র ১৩ বছর বয়সে তাঁর বিয়ে হয়। সংসার, সন্তান প্রতিপালন এবং সামাজিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তিনি লেখালেখি চালিয়ে যান। বিয়ের পর ১৯৪৩ সালে বগুড়ার আজিজুল হক কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। জীবনের প্রায় পুরো সময়ই তিনি বগুড়ার জলেশ্বরীতলার বাড়িতে কাটিয়েছেন। ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম গ্রন্থ ‘রক্তে আঁকা ম্যাপ’। নারী দস্যুকে কেন্দ্র করে লেখা ‘দস্যুরানী’ সিরিজ দিয়ে সাহিত্যজগতে আত্মপ্রকাশ করলেও কাঙ্ক্ষিত সাড়া পাননি। পরে ১৯৬৫ সালে ‘দস্যু বনহুর’ সিরিজের প্রথম খণ্ড প্রকাশের মাধ্যমে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। পরবর্তী দুই দশকে বনহুরকে কেন্দ্র করে ১৩৮টি বই প্রকাশ করেন তিনি। ১৯৮৫ সালে ‘দস্যু বনহুরের শেষ যাত্রা’ প্রকাশের মাধ্যমে সিরিজটির সমাপ্তি ঘোষণা করেন। রোমেনা আফাজের বই প্রকাশ ও বিপণনের দায়িত্ব পালন করত তাঁর পরিবারের প্রতিষ্ঠান ‘সাহিত্য কুটির’। ফলে ঢাকা বা চট্টগ্রামের বড় প্রকাশনা সংস্থাগুলোর সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল না। এই প্রান্তিক অবস্থানও তাঁকে মূলধারার সাহিত্য আলোচনার বাইরে রাখার অন্যতম কারণ বলে মনে করা হয়। সাহিত্য সমালোচকদের মতে, ভাষাশৈলী, সম্পাদনা ও কারিগরি দিক থেকে তাঁর রচনায় নানা সীমাবদ্ধতা ছিল। তবে তাঁর মূল শক্তি ছিল কাহিনির গতি, নাটকীয়তা এবং পাঠককে ধরে রাখার ক্ষমতা। বিশেষ করে কিশোর ও তরুণ পাঠকদের মধ্যে তাঁর বই ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। গবেষকদের একাংশের মতে, রোমেনা আফাজকে প্রচলিত সাহিত্যিক মানদণ্ডে বিচার করলে তাঁর অবদানের পূর্ণ মূল্যায়ন সম্ভব নয়। তাঁকে ‘পাল্প ফিকশন’ বা জনপ্রিয় ধারার সাহিত্যের একজন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। কারণ তাঁর রচনায় শুধু রোমাঞ্চ নয়, সময়ের সামাজিক পরিবর্তন, শ্রেণিবৈষম্য, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রামের নানা প্রতিফলনও পাওয়া যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, বনহুর চরিত্রের বিবর্তনও তাৎপর্যপূর্ণ। প্রথমদিকে দরিদ্রবান্ধব দস্যু হিসেবে আবির্ভূত হলেও পরবর্তী সময়ে তিনি গোয়েন্দা ও সমাজরক্ষকের ভূমিকায় দেখা দেন। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে চরিত্র ও কাহিনির রূপান্তর ঘটানোর মধ্যেই লেখকের সৃজনশীলতা প্রতিফলিত হয়েছে। রোমেনা আফাজের বিভিন্ন রচনায় ধর্মীয় সহনশীলতা ও সম্প্রীতির বার্তাও উঠে এসেছে। তাঁর উপন্যাস ও সিরিজগুলোর বিভিন্ন অংশে হিন্দু-মুসলিম সহাবস্থান, সামাজিক উদারতা এবং মানবিক মূল্যবোধের প্রতিফলন দেখা যায়। এ কারণে তাঁর সাহিত্যকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে পুনর্মূল্যায়নের দাবি উঠছে। সাহিত্য বিশ্লেষকদের ভাষ্য, একজন নারী লেখক হিসেবে মফস্বল শহরে বসে নিজস্ব পাঠকসমাজ গড়ে তোলা এবং জনপ্রিয় সাহিত্যে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব সৃষ্টি করা ছিল রোমেনা আফাজের বড় অর্জন। জন্মশতবর্ষে তাঁর সাহিত্যকর্ম নিয়ে নতুন গবেষণা ও আলোচনা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা। তাদের মতে, রোমেনা আফাজকে শুধু জনপ্রিয় রহস্যকাহিনির লেখক হিসেবে নয়, বরং বাংলা সাহিত্যের এক স্বতন্ত্র ও প্রান্তিক কণ্ঠস্বর হিসেবে মূল্যায়ন করার সময় এসেছে। তাঁর অবদানকে দীর্ঘদিন অবহেলা করার ফলে বাংলা সাহিত্যই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জন্মশতবর্ষে নতুন করে আলোচনায় রোমেনা আফাজ
জন মশতবর ষ নত ন কর আল - চলতি বছর বাংলা রহস্য ও গোয়েন্দা সাহিত্যের জনপ্রিয় লেখক রোমেনা আফাজের জন্মশতবর্ষ পালিত হচ্ছে। তবে বিপুল পাঠকপ্রিয়তা অর্জন করলেও বাংলা
Desk
Uncategorized
Published
July 18, 2026
Reading time
1 minutes
Conversation
No comments
