জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কারাবন্দীদের যোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতির আহ্বান
Todaybangladeshnews.com – জ ল ই আন দ লন ক – গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র আবু হানিফ এক বিবৃতিতে জোর দিয়েছেন যে, জুলাই আন্দোলনে কারাগারে বন্দি থাকা হাজারো মানুষকেও রাষ্ট্রীয়ভাবে জুলাইযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। শনিবার, অর্থাৎ ১ অগাস্ট তারিখে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত একটি পোস্টের মাধ্যমে এই দাবিটি তুলে ধরেন।
দীর্ঘ সংগ্রামের ফল হিসেবে জুলাই গণঅভ্যুত্থান
আবু হানিফের মতে, যদিও জুলাই গণঅভ্যুত্থান মাত্র ৩৬ দিন ধরে সংগঠিত হয়েছিল, কিন্তু এর পেছনে ছিল ১৭ বছরের একটি বিশাল সংগ্রাম। অসংখ্য মানুষের ত্যাগ এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে কোনো আপসহীন প্রতিরোধের এই সমন্বয়ই ছিল এর মূল ভিত্তি। ইতিহাস রচনার সময় শুধুমাত্র শহীদ ও আহতদের নামই নয়, কারাগারে বন্দি থাকা হাজারো মানুষের অবদানকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে স্মরণ করতে হবে। কারণ এই আন্দোলনের একটি বিশাল অংশ গড়ে উঠেছিল তাদের ত্যাগ, সাহস ও আত্মদানের ওপর ভিত্তি করে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় (ওএইচসিএইচআর) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ১১ হাজার ৭০০-এর বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তবে প্রকৃত সংখ্যাটি ছিল প্রায় ২০ হাজারের কাছাকাছি। আন্দোলনের গতি থামিয়ে দিতে সরকার নির্বিচারে গ্রেপ্তার, মিথ্যা মামলা, রিমান্ড, কারাবাস ও নানামুখী হয়রানির আশ্রয় নিয়েছিল। কিন্তু কারাগারের লোহার শিকল মানুষের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে বন্দি করতে পারেনি। বরং আন্দোলন আরও বিস্তৃত হয়েছে।
যারা কারাবরণ করেছিলেন, তাঁদের অনেকেই ছাত্র, তরুণ, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, পেশাজীবী কিংবা সাধারণ নাগরিক ছিলেন। তাঁদের একমাত্র “অপরাধ” ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখা।
কারাগারের কঠিন পরীক্ষা ও পরিবারের ত্যাগ
কারাগারের প্রতিটি দিন ছিল বন্দিদের জন্য একেকটি কঠিন পরীক্ষা। সেই সঙ্গে তাঁদের পরিবারকে সহ্য করতে হয়েছে অনিশ্চয়তা, আর্থিক সংকট, সামাজিক চাপ এবং মানসিক কষ্ট। তাঁদের এই ত্যাগকে কোনোভাবেই ইতিহাসের প্রান্তে ঠেলে দেওয়া যায় না।
রাষ্ট্র ইতোমধ্যে জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও আহতদের “জুলাই যোদ্ধা” হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এটি নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে একই আন্দোলনে অন্যায়ভাবে কারাবরণ করা হাজারো মানুষের অবদানও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবি রাখে। তাঁদের অবদানকে অস্বীকার করা মানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে অসম্পূর্ণ রেখে দেওয়া।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কারাবন্দীদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবি উঠেছিল। কিন্তু সেই দাবি বাস্তবায়িত হয়নি। এখন সময় এসেছে সেই অপূর্ণতাকে পূরণ করার। ইতিহাসের প্রতি ন্যায়বিচার করতে হলে আন্দোলনের প্রতিটি ত্যাগকে সমান মর্যাদা দিতে হবে।
আমরা এমন একটি রাষ্ট্র দেখতে চাই, যেখানে শহীদের রক্ত, আহতদের যন্ত্রণা এবং কারাবন্দীদের আত্মত্যাগ সবকিছুকেই শ্রদ্ধায় স্মরণ করা হবে। কারণ স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে প্রত্যেকের অবদানই মূল্যবান। তাই বর্তমান সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানাই, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অন্যায়ভাবে কারাবন্দী হওয়া ব্যক্তিদের যথাযথ যাচাই-বাছাই করে তাদেরও “জুলাই যোদ্ধা” হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হোক।
এই স্বীকৃতি শুধু কয়েক হাজার মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করবে না, এটি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাসকে আরও পূর্ণাঙ্গ, ন্যায়সঙ্গত ও মর্যাদাপূর্ণভাবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।

