Uncategorized

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক উপজেলা প্রকৌশলীদের স্ত্রী, কাজ না করেই টাকা আত্মসাৎ

ঠ ক দ র প রত ষ - টাকা আত্মসাৎয়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এডিবির অতিরিক্ত বরাদ্দকৃত ৪৬ লাখ টাকা কোনো প্রকল্প সম্পন্ন

Desk Uncategorized
Published July 31, 2026
Reading time 1 minutes
Conversation No comments
Foto : Patricia Martinez - todaybangladeshnews.com

ঘাটাইলে এডিবির ৪৬ লাখ টাকা কাজ না করেই উত্তোলন

Todaybangladeshnews.com – ঠ ক দ র প রত ষ – টাকা আত্মসাৎয়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এডিবির অতিরিক্ত বরাদ্দকৃত ৪৬ লাখ টাকা কোনো প্রকল্প সম্পন্ন না করেই উত্তোলন করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। এই অনিয়মের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমাদুল হাসান, উপজেলা প্রকৌশলী এবং প্রকৌশল বিভাগের হিসাবরক্ষক আমিনুল ইসলামসহ কয়েকজন কর্মকর্তার নাম উঠে এসেছে।

দরপত্র ছাড়াই অর্থ উত্তোলন

প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বিধিমালা অনুযায়ী কোনো উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান বা পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি বলে অভিযোগ। বরং কোটেশনের মাধ্যমে নির্বাচিত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নামে প্রকল্প দেখিয়ে বরাদ্দের অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। পুরো অর্থ লেনদেনের সমন্বয় করেছেন উপজেলা প্রকৌশল বিভাগের হিসাবরক্ষক আমিনুল ইসলাম, যিনি দীর্ঘ সাত বছর ধরে একই উপজেলায় কর্মরত আছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে প্রকৌশল বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারীর স্ত্রীদের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রকল্পের অর্থ বিতরণ করা হয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের ফটোকপি মেশিন অপারেটর উজ্জ্বল হোসেনের স্ত্রী সালমা আক্তারের মালিকানাধীন মেসার্স ফাতেমা ট্রেডার্স এবং উপজেলা পরিষদের অফিস সহায়ক তোফাজ্জল হোসেনের স্ত্রী বিথী আক্তারের মালিকানাধীন মেসার্স তানহা এন্টারপ্রাইজ-এর নামে একাধিক প্রকল্প দেখিয়ে ওই অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে।

আমার স্ত্রীর প্রতিষ্ঠানের নামে কোটেশনের মাধ্যমে কয়েকটি প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে কাজ করা সম্ভব হয়নি।

এছাড়াও প্রকৌশলী বিভাগে পিওন রাকিবুলের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের নামেও প্রকল্প দেখিয়ে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

ধামাচাপা দিতে নতুন উদ্যোগ

অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর তা ধামাচাপা দিতে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফুটবল বিতরণ, দুঃস্থ নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ এবং কয়েকটি এলাকায় নলকূপ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে গত অর্থবছরের প্রকল্পগুলোর কাজ সম্পন্ন না করেই সরকারি অর্থ উত্তোলন কতটা বিধিসম্মত—তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এছাড়া উপজেলা প্রকৌশলী ও প্রকৌশল বিভাগের হিসাবরক্ষক পুরো প্রক্রিয়ায় জড়িত ছিলেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, সরকারি ক্রয়বিধি অনুসরণ না করে এবং কোনো ধরনের দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ছাড়াই প্রকল্প অনুমোদন ও অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে।

অফিসিয়ালদের প্রতিক্রিয়া

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে গিয়েও আমিনুলকে পাওয়া যায়নি। পরে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অস্বীকার করে ঘটনা এড়িয়ে যান। এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান পুরো বিষয়টি অস্বীকার করেন। দুর্নীতির অভিযোগের সঠিক কোন উত্তর দিতে পারেননি এবং ব্যস্ত রয়েছি বলে ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

উপজেলা পরিষদের অফিস সহায়ক তোফাজ্জল হোসেন বলেন, আমার স্ত্রীর প্রতিষ্ঠান তানহা এন্টারপ্রাইজকে দুটি রাস্তা নির্মাণসহ কয়েকটি প্রকল্প দেওয়া হয়েছে। তবে এসব কাজের বিষয়ে আমি বিস্তারিত জানি না।

এই ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সরকারি অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।

Leave a Comment