বিশ্বকাপে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়ছে, কোনো পরাশক্তিও রেহাই পাচ্ছে না
ড র জ বর ছড চ ছ – আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে ভোজিনহা স্পেনের আক্রমণ থেকে বারবার ডানায় ভর দিয়ে উড়ছিলেন চল্লিশ বছরের গোলরক্ষক। বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র দুই সপ্তাহ আগে তার সামনে তিনি ইউরো চ্যাম্পিয়নদের সম্মুখীন হয়েছিলেন কিন্তু গোল আসেনি। ম্যাচের সমাপনে স্কোরবোর্ডে ০-০ ছিল।
কেপ ভার্দে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রতিষ্ঠা করল নতুন ছবি
আটলান্টিকের বুকে ভাসা পাঁচ লাখ মানুষের জন্য সেই ড্রয় ইতিহাসের সমান ছিল। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ৬৭ নম্বরে থাকা কেপ ভার্দে বিশ্বকাপে প্রথম পা রাখল সময়ে এই কীর্তি অর্জন করেছে। তার সামনে স্পেনের তারকারা একের পর এক ব্যর্থ হয়েছে।
‘এটা আমাদের দেশের কাছে সবকিছু। সবসময় চেয়েছি, সবাই আমাদের দেশটাকে দেখুক, দলটাকে দেখুক। আজ দেখাল, আমরা কারা।’
স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে ম্যাচে পরাজয়ের প্রতি রাজি নন। তিনি বলেছেন, ‘আপনার কি মনে হয় আমার দল সন্দেহে ভুগবে? একটুও না।’
বিশ্বকাপের প্রথম দিন কেপ ভার্দে নতুন কীর্তি তৈরি করেছে যা পরিসংখ্যানের সামনে প্রমাণ হয়েছে। স্পেন গোলমুখে শট নিয়েছে ২৭টি কিন্তু কেবল সাতটি লক্ষ্যে পৌঁছেছে। ফেরান তোরেসের এক শট ক্রসবারে লেগেছিল কিন্তু গোল হয়নি। বদলি নেমে লামিন ইয়ামালও তালা ভাঙতে পারেনি।
বিশ্বকাপ শুরু করল পয়েন্ট হারিয়ে। তালিকাটা আরও লম্বা। ইরান নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ২-২ ড্র করেছে। সমতা ফেরানো গোলটা মোহাম্মদ মোহেব্বির। বেলজিয়াম মিশরের সঙ্গে আটকে গেছে ১-১ ব্যবধানে। জাপান নেদারল্যান্ডসকে ২-২ গোলের ড্রয়ে রুখে দিয়েছে। স্বাগতিক কানাডাও বিপক্ষে পয়েন্ট তুলতে পারেনি।
ড্রয়ের ঢেউয়ের ভেতর একটি আলাদা রোমাঞ্চ ছিল যেটা পতাকা চেনে না। পাঁচ লাখ মানুষের একটি দ্বীপ যখন বিশ্বের সেরা দলকে রুখে দেয়, তখন সেই গল্পটা হয়ে ওঠে সব ছোট স্বপ্নের গল্প। এতে নতুন বিশ্বকাপে বাংলাদেশের স্বপ্নও বাস্তবতার দিকে তাকিয়েছে।
বিশ্বকাপ সবে শুরু, কিন্তু এর মধ্যেই সে বুঝিয়ে দিয়েছে যে এবারের বিশ্বকাপের গল্পটা শুধু দৈত্যদের একার নয়। কেপ ভার্দে পরাশক্তি থামিয়ে দিয়েছে আটলান্টার ভোজিনহাই থাক স্মৃতিতে।
বিশ্বকাপের স্বাগতিক পর্বে কুরাসাও থেকে কেপ ভার্দে আসে হারানোর ভয় ছাড়া। পুরো রক্ষণ জমাট বেঁধে এসেছে। স্পেনের ২৭ শট কেবল সাতটি লক্ষ্যে পৌঁছেছে যেটা প্রমাণ করেছে আধুনিক ফুটবলে রক্ষণ ভাঙা কত কঠিন।
প্রথম সপ্তাহে সমান-সমান
