বেওয়ারিশ কুকুর অপসারণে হাইকোর্টের রুল
ব ওয় র শ ক ক র – হাইকোর্ট বিভাগের দ্বৈত বেঞ্চ এক জনস্বার্থমূলক রিট পিটিশনের শুনানি শেষে বেওয়ারিশ কুকুর অপসারণ ও স্থানান্তর প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে রুল জারি করেছেন। আদালত ঘোষণা করেছেন যে স্থানীয় সরকার বিভাগের ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ পরিপত্র এবং প্রাণী কল্যাণ আইন, ২০১৯-এর ধারা ৭(১) ও ১৪ নং ক্ষেত্রে কর্তৃত্ব বিহীন ও অকার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে না।
নির্দেশ অনুযায়ী মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে ৬০ দিনের মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের জন্য আদেশ দেওয়া হয়েছে। কমিটিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় গণটিকাদান এবং কুকুর ধরা-বন্ধ্যাকরণ-টিকাদান-অবমুক্তকরণ কর্মসূচি পরীক্ষা করে তা অনুসন্ধান করতে হবে।
একই দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে পথকুকুর নিধনের দাবি ও প্রাণী কল্যাণ আইনের বাস্তবায়ন বিরোধিতা করে মানববন্ধন সংগঠিত হয়। এতে প্রাণিকল্যাণ কর্মী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, চলচ্চিত্রকর্মী ও সাধারণ নাগরিক প্রায় দুই শতাধিক ব্যক্তি অংশ নেন।
মানববন্ধনে জোরদার করা হয়েছে কনভির ও গণটিকাদান প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের দাবি। এএলবি অ্যানিমেল শেল্টারের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দীপান্বিতা হৃদি নির্দেশনার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “আদালতের এই আদেশ প্রাণিকল্যাণ, জনস্বাস্থ্য এবং মানবিক মূল্যবোধ রক্ষার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।”
স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন জনপরিসর থেকে বেওয়ারিশ কমিউনিটি কুকুর অপসারণ প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ করে রিট পিটিশন নং ৬৬৯৯/২০২৬ দায়ের করেন দীপান্বিতা হৃদি। রিটের বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার ও আহমেদ সোহেলের সমন্বয়ে শুনানি করা হয়।
তিনি বলেন, “কমিউনিটি কুকুর ব্যবস্থাপনার গ্রহণযোগ্য সমাধান হত্যা নয়; বরং টিকাদান, বন্ধ্যাকরণ এবং মানবিক ব্যবস্থাপনা।”
গ্রিট ফাউন্ডেশনের পরিচালক নিলুফার ইয়াসমিন টুম্পা বলেন, “মানববন্ধনে উত্থাপিত দাবিগুলোর গুরুত্ব আদালতের নির্দেশনার মাধ্যমে আরও জোরালোভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।” তিনি দ্রুত কনভির ও গণটিকাদান কার্যক্রম বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
প্রাণিকল্যাণ সংশ্লিষ্টদের মতে, আদালতের এ নির্দেশনা বাংলাদেশে প্রাণিকল্যাণ, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং মানুষ ও পথপ্রাণীর নিরাপদ সহাবস্থান নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।
