হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল বোঝাই কার্যক্রম আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে, বিশ্ব বাজারে দাম কমেছে
হরম জ প রণ ল ত জ – আন্তর্জাতিক তেল বাজারে দামের নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে, যার কারণ হরমুজ প্রণালির মধ্যে তেল পরিবহন স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। শুক্রবার (২৬ জুন) বিশ্ববাজারে প্রায় ২ শতাংশ হ্রাস হয়েছে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতির ফলে। সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
গ্রিনিচ মান সময়ে ভোর ৪টা ২১ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ৪৭ ডলার থেকে কমে ব্যারেলপ্রতি ৭৩ দশমিক ৭৯ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ৪৪ ডলার হতে কমে ৭০ দশমিক ৪৮ ডলারে পৌঁছেছে।
সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি সৌদি আরামকো আবারও উপসাগরীয় অঞ্চলের রাস তানুরা টার্মিনাল থেকে অপরিশোধিত তেল লোডিং শুরু করেছে। এই অবস্থা অনুযায়ী বর্তমানে দুটি ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ারে তেল বোঝাই করা হচ্ছে এবং আরও একটি জাহাজের লোডিং প্রস্তুতি চলছে। প্রতিটি জাহাজে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল বহনের সক্ষমতা রয়েছে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন বৃদ্ধির সাথে চীনে প্রত্যাশার তুলনায় দুর্বল চাহিদা কারণে বাজারে বিক্রি চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি দামের উপর প্রভাব ফেলছে।
বলেন স্পার্টা কমোডিটিজের জ্যেষ্ঠ তেল বাজার বিশ্লেষক জুন গোহ। এর আগে ওমান উপকূলে অজ্ঞাত হামলার ঘটনার জেরে দাম ২ শতাংশের বেশি বেড়েছিল।
তবে আইএমও নিরাপদে জাহাজ সরিয়ে নেওয়ার স্বেচ্ছাসেবী কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। রয়টার্সকে দুই মার্কিন কর্মকর্তা জানান, জাহাজটিতে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় ইরান হামলা চালানো হয়েছিল। ইরান তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং নির্ধারিত নৌপথের বাইরে চলাচলকারী জাহাজের নিরাপত্তা তাদের দায়িত্ব নয়।
আইএনজি ব্যাংকের বিশ্লেষকদের মতে বর্তমানে যেসব জাহাজ চলাচল করছে, সেগুলোর বেশির ভাগ সাম্প্রতিক সংঘাতে উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকে পড়েছিল। তারা মনে করছেন যে এগুলো গন্তব্যে পৌঁছে গেলে তেল পরিবহনের গতি আবার কিছুটা কমে যেতে পারে। অন্যদিকে বুধবার ভেনেজুয়েলায় হানা হানা শক্তিশালী ভূমিকম্প বৈশ্বিক তেল সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তবে দেশটির তেল ক্ষেত্র, শোধনাগার, পাইপলাইন ও রপ্তানি টার্মিনালে কোনো উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়নি।
