খাবার দাবার: এক প্রজন্মের সৃজনশীলতার ঠিকানা
খ ব র দ ব র – খাবার দাবার – সাগরের সাথে সেই দিনগুলো মনে পড়ে যায় যখন আমরা সর্বদা তার আড্ডায় যোগ দিয়ে থাকতে পারি। রূপে রসে, বর্ণে গন্ধে যা ছিল অতি বিশেষ সে বিষয়টি আমাদের যৌবনের স্মৃতির মধ্যে স্থান পেয়েছিল। এ গান শুনলে খাবার দাবারের সুর মনে হয়। সেই সময় তারুণ্যের ছটফটানি কাউকে বসে থাকতে দেয় না কিন্তু আমরা চারপাশে সর্বনাশের হাতছানি উপেক্ষা করে একত্রিত হয়েছিলাম। আবার খাবার দাবার ছিল বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে একটি স্থানীয় রূপান্তর হিসেবে বিশেষ চিহ্নিত হয়েছে।
খাবার দাবারের জন্ম এবং সাগরের ভূমিকা
দেশজুড়ে প্রবল অস্থিরতা ছড়ানো ছিল চুয়াত্তর/পঁচাত্তর সালে। বিশেষ করে তারুণ্যের তেজে অহরহ অঘটন ঘটছে এখানে ওখানে। সেসময়ে সাগরের বিরাট ভূমিকা ছিল তার সাথে। তিনি তখন কোনো পত্র পল্লবহীন কিন্তু সবাই একত্র থাকার জন্য প্রস্তুত ছিলেন। খাবার দাবারের একটি স্থান হিসেবে সাগরের নেতৃত্বে সাংস্কৃতিক সম্প্রদায় একত্রিত হত।
টেলিভিশনে সর্ববিষয় নিয়ে চমৎকার অনুষ্ঠান হয় সেসময়ে। দর্শকরা আইন, চিকিৎসা, বিতর্ক, বিজ্ঞান এবং সাহিত্য ইত্যাদি বহু বিষয়ের উপর নির্মিত অনুষ্ঠান অতি আগ্রহ নিয়ে দেখতেন। শাইখ সিরাজ কৃষি বিষয় নিয়ে অনুষ্ঠান করতে কোমর বেঁধে নেমে পড়ে। আমি ঢাকা থিয়েটারে যোগ দিয়েছি এবং মঞ্চের পাশাপাশি টেলিভিশন নাটকে অভিনয় করি। ইমদাদুল হক মিলন হবে প্রতিজ্ঞা করে দিনরাত তখন হয় পড়ে না হয় লেখে। খাবার দাবার ছিল এমন এক স্থান যেখানে সাংস্কৃতিক আলোচনা এবং সৃজনশীলতা সমন্বিত হত।
বিকাল হলে আমরা যে যেখানেই থাকি, হাজির হয়ে যাই খাবার দাবারে। বিকাল থেকে দীর্ঘ সময় ধরে আড্ডা চলে। আমরা অনেকে আসি। সাগর আর শাইখ সিরাজের বসার জন্য তৈরি করা কেবিনটা দখল করে আড্ডা চলতে থাকে। খাবার দাবার সেসময় সাংস্কৃতিক নেতাদের জন্য একটি প্রাণবন্ত স্থান হিসেবে বিশেষ প্রাধান্য অর্জন করে।
খাবার দাবার খুলে বসলো বঙ্গবন্ধু এ্যাভেনিউতে ভাতের হোটেলে। নতুন খোলার পর প্রায় সারাদিনই সে রেস্টুরেন্ট থাকে খরিদ্দার ছাড়া। তিনি অস্তিত্ব নির্মাণের চেষ্টা করছেন। যে মাথা একদিন দৌড়াতে শুরু করেছে তার থামাথামি নেই। আমাদের আড্ডাটা দিনে দিনে বাড়তে থাকে। কারা কারা যুক্ত হলো বলবো। বলা চলতে থাকলে বোঝা যাবে যে এই একটি মানুষের মাথা বিশেষ মাত্রার অশ্বশক্তি সম্পন্ন। খাবার দাবারের প্রতিষ্ঠা ছিল একটি সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিক আন্দোলনের সমন্বয়ে সৃষ্ট হয়েছিল।
খাবার দাবার প্রতিষ্ঠা ছিল সাগর এবং শাইখ সিরাজের একত্রিত চেষ্টা। দেশের নানান কোনো স্থান থেকে যুবক-সমাজের শিক্ষিত সম্প্রদায় সেখানে একত্রিত হতেন। �
