ইবোলায় মৃতের সংখ্যা ২২০: পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে
ইব ল য ম ত র স – গত সোমবার আল জাজিরা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস ঘোষণা করেছেন, ইবোলা বিপর্যয় বর্তমানে সন্দেহভাজন মৃতের সংখ্যা পৌঁছেছে ২২০ এর উপর। তিনি আরও বলেন যে আক্রান্তদের শনাক্ত করতে বিলম্ব হওয়ায় পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে উঠছে।
গত সপ্তাহে ভাইরাসের ছড়িয়ে পড়া প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্র ইতুরি প্রদেশে চূড়ান্ত অবস্থায় পৌঁছেছে। ইবোলার নতুন বুন্ডিবুগিও ধরনের ক্ষেত্রে এখনও কোনো টিকা বা চিকিৎসা প্রস্তুত হয়নি। এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে ইতুরি প্রদেশের মংবওয়ালু শহরে কিছু বাসিন্দা ইবোলা রোগীদের রাখা হয়েছিল একটি তাঁবুতে। রোববার সন্ধ্যায় সেখানে ক্ষুব্ধ যুবকদের হামলা চালানো হয়।
তিনি আরও বলেন, এই মুহূর্তে মহামারি আমাদের ছাড়িয়ে যাচ্ছে। নিয়ন্ত্রণের বাইরে পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তর-পূর্ব কঙ্গোতে এখন পর্যন্ত ৯০০ এর বেশি সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত করা হয়েছে।
ইবোলা রোগ শরীরের তরল সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে মারাত্মক রক্তক্ষরণ এবং অঙ্গ বিকল হতে পারে। এর ফলে সীমান্ত পেরিয়ে উগান্ডায় সংক্রমণের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে দুই মানুষের শরীরে। উগান্ডার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানায় যে দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা সাত জনে পৌঁছেছে।
সেই সাথে রিচার্ড লোকুডু বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানান, মংবওয়ালু জেনারেল হাসপাতালে হামলার সময় সন্দেহভাজন রোগীদের রাখা হয়েছিল এবং হামলাকারীরা তাদের আত্মীয়দের দুটি মরদেহ হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছিল।
আগুন ধরার ঘটনা সংঘটিত হয়েছিল ইতুরি প্রদেশের মংবওয়ালুর তাঁবুতে। ওই হামলার সময় ১৮ জন সন্দেহভাজন ইবোলা আক্রান্ত সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরে তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। এর আগের বৃহস্পতিবার রুয়ামপাড়া শহরে একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে আগুন দেওয়া হয়।
কঙ্গোর সরকার বলেছেন যে ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে উত্তর-পূর্ব কঙ্গোতে বেশির ভাগ মানুষের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া, শোকসভা ও জনসমাগম নিষিদ্ধ করা হবে। সাম্প্রতিক সময়ে মংবওয়ালু জেনারেল হাসপাতাল সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ে তার কাছে আর বিস্তারিত তথ্য ছিল না।
