প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হকের বিবৃতি
ব দ শ কর ম প ঠ – ২ জুন মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক ব্রিফিংয়ে আরিফুল হক জানান, বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা দুর্নীতির সুযোগ থাকবে না। তিনি ঘোষণা করেন, জনশক্তি রপ্তানি খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করবে।
প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে প্রতিশ্রুতি
মন্ত্রী জানান, প্রবাসীদের অভিযোগ এবং সমস্যা দ্রুত নিরাপত্তা প্রদানের উদ্দেশ্যে মন্ত্রণালয়ে বিশেষ সেল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশে অবস্থানরত প্রবাসীদের সমস্যার সমাধানে সরাসরি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
“আমি প্রথম দিন থেকে বলে আসছি, কোনো গোষ্ঠী কর্মীদের বিদেশে পাঠাবে না। সরকারের দৃঢ় অবস্থান রয়েছে।”
মানবপাচার ও রাশিয়ার অভিযোগ
রাশিয়ায় মানবপাচার ও কিছু রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠার পর সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করা হয়েছে। অভিযোগ তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রমাণ পেলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
বিদেশে কার্ড ইস্যুর ব্যবস্থা
বিদেশে কার্ড প্রদানের বিষয়ে তদন্ত চালানো হবে। এই কার্ড বিশেষ ভাবে বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানো প্রবাসীদের সরকারি ও বেসরকারি সেবার বিশেষ সুবিধা দেবে। ব্যাংকিং পরিচয় সংক্রান্ত সুবিধা ও স্বাস্থ্যসেবার অগ্রাধিকার বর্তমানে পর্যালোচনাধীন রয়েছে।
সংস্থার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা
মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের ১০১টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও জনশক্তি রপ্তানি ব্যবস্থা দুর্নীতিমুক্ত করা একটি প্রধান চ্যালেঞ্জ। তিনি জাহির করেন, এ খাতকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করাই আমার অঙ্গীকার।
যদি সে খাতকে স্বচ্ছ করা সম্ভব হয় না, তাহলে নিজেকে সফল বলে মনে করব না। গণমাধ্যমে অনিয়ম বা দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নেবে। সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, আপনারা তথ্য দিন, আমরা ব্যবস্থা নেব। কোথাও অনিয়মের প্রমাণ পেলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সেবা দেওয়ার সময় প্রবাসীদের বিশেষ সুবিধা পাওয়ার বিষয়ে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, বিদেশে কর্মীদের বিভিন্ন ধরনের সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কার্ড ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। হোয়াটসঅ্যাপ সহ সহজ যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবস্থা করা হয়েছে কারণ অনেক প্রবাসী ই-মেইলে অভ্যস্ত নন।
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার প্রসঙ্গ
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুললে সেটি স্বচ্ছ ও সিন্ডিকেটমুক্ত হবে। প্রবাসীদের জন্য প্রবাসী কার্ড চালুর পরিকল্পনা অনুসন্ধানের পরিপ্রেক্ষিতে স্থায়ী ব্যবস্থা করা হবে।
