ইগো, দূরত্ব ও নিঃসঙ্গতা: প্রবীণ জীবনের অপ্রকাশিত সংকট!
ইগ দ রত ব ও ন সঙ – রাজধানীতে এক মায়ের একাকী মৃত্যুর ঘটনা মনে কাটে না। তাঁর চার সন্তান থাকলেও এতটা নিঃসঙ্গ হয়ে গেছেন যে, সেই পরিবারে প্রবীণ বয়সে কীভাবে জীবন কাটবে তা স্বাভাবিক বোধ করে না।
পুরোনো কালের একটি প্রবাদ মনে আছে – এক ছেলের মা হলো কুকুর আর সাত ছেলের মা ঠাকুর। মানে কোনো মাকে যদি একটি সন্তান থাকে আর সে কোনোভাবে বিপর্যয়ে পড়ে তবে তাঁর বেদনা অনেক বেশি হয়ে ওঠে। বিপর্যয়ের আবেগ যখন দূরে সরে যায়, তখন কোনো সন্তান যদি ঘুরে আসে তবে মাকে দেখার আনন্দ তাদের দৃষ্টিতে একটি সামান্য মুহূর্ত মাত্র।
পরিবারের সুখ-দুঃখ সব সন্তানের জন্য মুখ্য বস্তু
জীবন একটি টোটাল প্যাকেজ। সুখ, দুঃখ, সন্তানের বৃদ্ধি, তাদের সমাধান, এবং শেষ পর্যন্ত সন্তানদের বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া ঘটনা সব সময় মাকে আবেগে ছুঁয়ে যায়। সার্থক জীবন যে অন্যের জন্য বেঁচে থাকা বলে আলবার্ট আইনস্টাইন বলেছিলেন – “অন্যের জন্য বেঁচে থাকা জীবনই সার্থক জীবন।” সেই মন্তব্য অবশ্য বিশেষ করে প্রবীণদের বেরোতে হয়।
বয়স বাড়তে থাকে, পরিবার ছোট হতে থাকে। এক সময় যে ঘরটি পূর্ণ ছিল তার অপেক্ষাকৃত বেশি চোখে পড়ে যায়। নিঃসঙ্গতা এবং দূরত্ব হলো একটি সামান্য ব্যাপার নয়। সেটি হালে ছোট্ট একটি সন্তানের অনুপস্থিতির প্রতিক্রিয়া হিসেবে প্রকাশিত হয়।
ফ্রয়েডের মতে নিঃসঙ্গতা কী করে জন্মগ্রহণ করে
বিশ্বখ্যাত অস্ট্রিয়ার মনোবিজ্ঞানী সিগমুন্ড ফ্রয়েডের তত্ত্ব অনুসারে, নিঃসঙ্গতা হলো মানুষের মনের অবদমিত অনুভূতি। অতৃপ্ত শৈশবকালীন আকাঙ্ক্ষা এবং ইগো ও সুপার ইগোর মধ্যকার মানসিক দ্বন্দ্ব তার বাহ্যিক প্রকাশ।
প্রবীণদের মানসিক অবস্থার মধ্যে ফ্রয়েডের মতবাদ প্রয়োগ করা যায়। তাঁদের ইগো তখন অধিক প্রখর হয়ে ওঠে মনের দ্বন্দ্ব থেকে বাঁচতে। এই অবস্থায় তাঁরা নিজের বেদনার স্মৃতি ভুলে যেতে চাইয়ে নেন। দমন করেন নিজের অসুবিধা বা অপ্রতিভতা কোনো বিষয়ের প্রতি অস্বীকৃতি রাখে।
প্রথমে বলা হয় নিজের বেদনা অন্যের উপর প্রক্ষেপণ করা। তারপর সেই বিষয়ে নিজের যুক্তি দেখানো। অতএব পরিবার সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় নিজের অবচেতন মনে কিছু অবচেতন কৌশলের মাধ্যমে।
মানুষের নিঃসঙ্গতা আর বিচ্ছিন্নতা
বাস্তবতায় প্রবীণ মানুষ কখনো কখনো অনুভব �
