হালুয়াঘাট সীমান্তে ভারতীয় গরু চোরাচালান ঠেকাতে টহল জোরদার
হ ল য় ঘ ট স ম – ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় গরু চোরাচালান বন্ধ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এ প্রসঙ্গে কোরবানির ঈদ কাছাকাছি সময়ে অবৈধ গরু প্রবেশ বন্ধ করার জন্য সীমান্ত এলাকায় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করেছে বিজিবি ও পুলিশ।
স্থানীয় খামারিরা দাবি করেছেন যে এ বছর যে কোরবানির ঈদে দেশি গরু বিক্রির সুযোগ ছিল, তা ঘিরে বিপুল খরচ করলেও মূল লাভের আশা রয়েছে। কিন্তু ঈদের আগে ভারতীয় গরু বাজারে ঢুকে দেশি গরুর মূল্য কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে বিক্রি করতে হয় কম দামে।
“বাজারে ভারতীয় গরু প্রবেশ করলে দেশি গরুর চাহিদা কমে যায় এবং আমাদের কম লাভ হয়।” – চুরখাই এলাকার খামারি আব্দুল মতিন
আব্দুল মতিন বলেন, ঘিরে আসা কোরবানি দিনে খামারিরা ন্যায্য মূল্য পান না। পশুপালন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী জেলায় কোরবানির পশুর ঘাটতি নেই। প্রায় ১ লাখ ৮১ হাজার পশুর চাহিদা রয়েছে কিন্তু প্রস্তুত রয়েছে ২ লাখ ২৬ হাজার পশু।
এদিকে খামারি ইয়ার মাহমুদ প্রিন্স জানান, চোরাকারবারিরা সারা বছর সক্রিয় থাকলেও কোরবানির ঈদের আগে তাদের কার্যক্রম গুণাত্মক হয়ে ওঠে। বিভিন্ন পদ্ধতিতে পশু চোরাচালান করে ভারতীয় গরু দেশে ঢুকে আসে।
অন্যদিকে পশুর হাটে ক্রেতাদের অভিযোগ রয়েছে যে ভারতীয় গরুকে দেশি গরু বলে বিক্রি করা হচ্ছে। মুক্তাগাছার ক্রেতা বাবুল আহমেদ জানান, কোনটি দেশি আর কোনটি ভারতীয় গরু বোঝা কঠিন হয়ে গেছে।
বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে
ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়নের (৩৯ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নুরুল আজিম বায়েজীদ জানান, গরু চোরাচালান বন্ধ করতে সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত টহল ও বিশেষ টিম মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন যে বিজিবি সদস্যরা দিনরাত টহল দিচ্ছেন এবং নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল-মামুন জানান, জেলার প্রতিটি থানায় বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সড়কে সিসি ক্যামেরা ব্যবহার করে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। জাল টাকা শনাক্ত করতে বিশেষ মেশিনও বসানো হয
