কিশোর-কিশোরীর মধ্যে যৌনসম্পর্ক আর ধর্ষণ নয়! নতুন আইন পাশ
ক শ র ক শ র র – নেপালের সরকার বর্তমান আইনের সামাজিক বিবাদগুলি দূর করার জন্য কিশোর ও কিশোরীদের পারস্পরিক সম্মতি দিয়ে হওয়া যৌনসম্পর্ককে ধর্ষণ হিসাবে গণ্য করা হবে না। সম্মতি সূচক যৌনসম্পর্কে সরকার পরিবর্তনের প্রস্তাব প্রস্তুত করছেন বলেন্দ্র শাহ সরকার। বর্তমানে সমবয়সী কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে যে কোনও যৌন সম্পর্ক ধর্ষণ হিসাবে বিবেচিত হত। সরকারি টাস্ক ফোর্স এবং আইন বিশেষজ্ঞদের সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে নতুন আইন চূড়ান্ত করার কথা চিন্তা করছে।
পূর্বের আইনে সম্মতি সূচক সম্পর্কে কোনও সুযোগ ছিল না। সম্মতি বা অসম্মতি ছাড়াই যে কোনও সম্পর্ক ধর্ষণ হিসাবে গণ্য হত। এ ক্ষেত্রে সম্মতি দিয়ে হওয়া সম্পর্ক কখনও অপরাধ বলে মনে করা হত না। সরকার এই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে এবং সংশোধনী প্রস্তাব করছে।
বর্তমান আইনে নাবালকদের সম্মতি একটি স্বীকৃত প্রমাণ বিবেচনায় নেওয়া হত না। ফলে বহু কিশোর ছেলেদের বিয়ে করার সম্পর্ক অপরাধ হিসাবে গ্রহণ করা হত। পরিবারের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হত সম্মতিসূচক সম্পর্কের কারণে। নতুন আইনে এই সমস্যাগুলি ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রেখে সমাধান করার চেষ্টা করছে সরকার।
আন্তর্জাতিক নির্দেশিকা প্রসঙ্গ
জাতিসংঘের শিশু অধিকার কমিটির আন্তর্জাতিক নির্দেশিকা অনুসারে, সুরক্ষা যেন শোষণের হাতিয়ার না হয় এমন নিয়ম ছিল। উভয় ব্যক্তি কিশোর-কিশোরী হলে সম্মতি সূচক সম্পর্ক বিশেষ করে ছেলেদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করার অনুমতি দেওয়া হবে না।
সুরক্ষা যেন কোনও ভাবেই শোষণের হাতিয়ার না হয় এমন নিয়ম আনা হবে বলে জাতিসংঘের শিশু অধিকার কমিটির আন্তর্জাতিক নির্দেশিকা প্রকাশ করে।
নেপালের সরকার এই আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে নতুন আইন চূড়ান্ত করছে। সম্মতি দিয়ে হওয়া সম্পর্ক ধর্ষণ হিসাবে গণ্য করার নীতি পরিবর্তন করা হবে। যেখানে দুই পক্ষের বয়স নির্দিষ্ট হয়ে গেলে সম্পর্কে বৈধতা আনা হবে।
নতুন ফৌজদারি আইনে একটি নতুন ধারা যোগ করার পরিকল্পনা হচ্ছে। কিশোর-কিশোরীর পারস্পরিক সম্মতি আনা হবে যেহেতু তাদের সম্পর্ক শোষণের হাতিয়ার নয়। কিন্তু সম্পর্কে যে কোনও শক্তি বা আর্থিক লেনদেন থাকলে তা অপরাধ হিসাবে গণ্য হবে। এই ধারাটির প্রস্তাবিত নাম ‘রোমিও-জুলিয়েট’ হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছে।
বিয়ের বয়স সম্পর্কে আইনিক সংশোধন চলছে। এই পরিবর্তনের ফলে সম্মতিসূচক সম্পর্ক বিষয়ে কোনও আইনি বৈধতা থাকবে না। প্রাপ্তবয়স্ক ও কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে সম্মতি না থাকলে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
