মিঠামইনে মাছ ধরতে গিয়ে বল্লমের আঘাতে যুবক নিহত
ম ঠ মইন ম ছ ধরত গ – কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার ঘোড়াউত্রা নদীতে গভীর রাতে মাছ ধরতে যাওয়ার সময় সাইদুর রহমানকে দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত করা হয়। ঘটনায় তার দুই সহোদর ভাইকে মারধর করে হাত-পা বেঁধে ফেলে রাখা হয়। এ সময় উপজেলার মুশুরিয়া এলাকার নদীতে হামলা ঘটে।
মঙ্গলবার (২৬ মে) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ঘটনা ঘটে। বুধবার (২৭ মে) সকালে মিঠামইন থানার ওসি মো. লিয়াকত আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। নিহত সাইদুর রহমান গোপদিঘী ইউনিয়নের ধলাই গ্রামের ফুল মিয়ার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জীবিকার তাগিদে সাইদুর রহমান তার দুই ভাই আনিছুর ও আতাউর রহমানকে নিয়ে রাতে নদীতে রিংজাল দিয়ে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। হামলাকারীদের সাথে তিনি যুদ্ধে জড়িত হয়েছিলেন।
হামলার সময় চারজন মুখোশধারী ব্যক্তি বল্লম ও দা নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। প্রথমে দুই ভাইকে এলোপাতাড়ি মারধর করে হাত-পা বেঁধে ফেলে। পরে সাইদুর রহমানের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে নদীর পানিতে ফেলে বল্লম দিয়ে আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি পানিতে ডুবে যান।
হামলার পর দুর্বৃত্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে আনিছুর ও আতাউর রহমানের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন নদী থেকে নিহতকে উদ্ধার করে। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে মিঠামইন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক তার মৃত্যু ঘোষণা করেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নিহতের শরীরে ডান পাশে ফুসফুসের উপরের অংশে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। চিকিৎসকদের মতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও আঘাতজনিত কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয়দের মতামত অনুযায়ী, পূর্বশত্রুতা বা মাছ ধরা সম্পর্কিত বিরোধের কারণে হামলার ঘটনা ঘটতে পারে। তবে এখনো ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। মিঠামইন থানার ওসি মো. লিয়াকত আলী বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মৃত দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
